
নিজস্ব প্রতিবেদক, পর্যটন সংবাদ: ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানীতে পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ আরও দুই অভিযুক্ত—মো. আলমগীর ও মনির ওরফে ‘লম্বা মনির’-এর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে মাহমুদুল হাসান মহিন ও টিটন গাজী পাঁচ দিন করে এবং তারেক রহমান রবিন দুই দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
ঘটনার দিন বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে ভয়ার্ত চিত্র উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক রক্তাক্ত ও অর্ধনগ্ন যুবককে ঘিরে ধরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বেধড়ক মারধর করছেন এবং শেষে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে মাথায় আঘাত করছেন।
নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগমের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে একে একে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সোহাগের সঙ্গে আসামিদের পূর্ব পরিচয় ছিল এবং তারা আগে একই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠনের পাঁচজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক পুরান ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকাগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকার নিকটেই রয়েছে আরমেনিয়ান চার্চ, আহসান মঞ্জিল, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরসহ নানা দর্শনীয় স্থান। তবে এই রকম সহিংস ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্রিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে নজরদারির আধুনিক পদ্ধতি—সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত পুলিশ টহল ও দ্রুত বিচার কার্যক্রম—পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



