
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরি ক সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত রয়েছে ‘আম কূটনীতি’। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য এক হাজার কেজি সুস্বাদু হাড়িভাঙা আম উপহার পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সরকারি সূত্র জানায়, দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দৃঢ় করতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপহার পাঠানো এই আমের চালানটি সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছাবে। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে আমগুলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, কূটনীতিক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে—দুই দেশের মৈত্রীর প্রতীক হিসেবে।
শুধু দিল্লিতেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই মৌসুমি ফল পাঠিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর আগেই ১১ জুলাই ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ৩০০ কেজি হাড়িভাঙা আম উপহার পাঠানো হয় আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে।
এই উপহার প্রথা প্রতি বছরই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পালন করা হয়ে থাকে। হাড়িভাঙার মতো স্বাদে অতুলনীয় আম উপহার হিসেবে পাঠিয়ে ভারতের মানুষকে আপ্যায়িত করা হয়, আর জবাবে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার বাংলাদেশের জন্য পাঠায় তাদের বিখ্যাত ‘কুইন’ জাতের আনারস।
এই উদ্যোগটিকে ‘আম কূটনীতি’ বা Mango Diplomacy নামে আখ্যায়িত করা হয়। যা আগের সরকারগুলোর আমলেও প্রচলিত ছিল এবং এখনো দুই দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, কৃতজ্ঞতা এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের আম ও ভারতের আনারসের এই মিষ্টি বিনিময় শুধু ফলের আদান-প্রদান নয়, বরং এটি দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনের এক প্রমাণ এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এক চিরন্তন মানবিক ছোঁয়া।



