
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের পাহাড়ি বনাঞ্চলে একসময়ের পরিচিত বাসিন্দা সাম্বার হরিণ এখন অস্তিত্ব সংকটে। চোরা শিকার ও বন ধ্বংসের কারণে দেশের পর্যটন সম্ভাবনাসমৃদ্ধ অঞ্চলে এ মহাবিপন্ন প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির মুখে। এ অবস্থায় সাম্বার হরিণ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
বুধবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেলা জানায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে এক চিঠি দিয়ে তারা সাম্বার হরিণ সংরক্ষণের জোরালো দাবি জানিয়েছে। চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে হরিণ শিকার ও হত্যার একাধিক ঘটনার উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, এটি এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
আইইউসিএনের লাল তালিকায় সাম্বার হরিণকে ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, বাংলাদেশে এটি ‘মহাবিপন্ন’ প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। হরিণটির আকার বড় হওয়ায় এবং এর চামড়ার প্রতি দেশি-বিদেশি চাহিদা থাকার কারণে চোরা শিকারিরা বারবার এটিকে টার্গেট করছে। বনের গভীরতা কমে আসায় হরিণের প্রাকৃতিক আবাসস্থলও হুমকিতে পড়েছে।
বেলা আরও জানায়, ২০২১ সালে রাঙামাটির লুলাংছড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি শাবক পরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের মার্চে লংগদু এলাকায় এক ব্যক্তি হরিণ শিকার করে মাংস বিক্রির চেষ্টা করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ জুন কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদী থেকে একটি আহত সাম্বার হরিণ উদ্ধার করা হলেও, তা পরে মারা যায়।
চিঠিতে বেলা অভিযোগ করেছে, সাম্বার হরিণ শিকার এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং দোষীদের শাস্তির ঘাটতি এই অপরাধকে উৎসাহিত করছে।
পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলোতে প্রাণবৈচিত্র্য হ্রাস পেলে পরিবেশের পাশাপাশি পর্যটনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। বেলার দাবি, সাম্বার হরিণসহ সব বিপন্ন প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলা এবং চোরা শিকার রোধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)



