
পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, সংঘর্ষ ও দফায় দফায় হামলার জেরে শহরে জারি করা হয়েছে কারফিউ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের ফলে ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ শহরে পর্যটন কার্যক্রম একপ্রকার থমকে গেছে।
বুধবার দিনভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে সহিংসতা, ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরজুড়ে, যার প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে।
কারফিউ জারির ফলে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট, হোটেল-মোটেল ও খাবারের রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল মিউজিয়াম, টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকা, মধুমতী নদীর পাড় ও স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে কোনো পর্যটকের দেখা মেলেনি।

বিশেষ করে টুঙ্গিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় সাধারণত দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। কিন্তু সহিংস পরিস্থিতি ও চলমান কারফিউ সেই স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
স্থানীয় এক চা দোকানি বলেন, “প্রতিদিন পর্যটকেরা এসে চা খেতেন, গল্প করতেন। আজ দোকান খোলা রেখেছি বটে, কিন্তু কেউ নেই।”
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ শহরের বেশ কিছু প্রধান সড়কে দেখা গেছে গাছ ফেলে ও তোরণ ভেঙে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে ভ্রমণপিপাসুদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে শহরে পুলিশের তৎপরতা ছিল কম। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেকেই আগেই বুক করা সফর বাতিল করছেন।
একজন স্থানীয় পর্যটন গাইড বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে কোনো পর্যটক আসবে না। যারা এসেছে তারাও গেস্টহাউসে আটকে আছেন। আমরা তো রোজগারের দিকেই তাকিয়ে থাকি।”
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
গোপালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলার পর্যটন জীবনযাত্রা সচল রাখতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে জরুরি।



