
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: নিবন্ধন স্থগিত হওয়া আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী ‘নৌকা’ প্রতীক নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও জনমনে বিভ্রান্তি।
গতকাল বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ‘নৌকা’ প্রতীক, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন তারিখ এবং প্রতীকের তথ্য মুছে ফেলা হয়। পরে রাতেই সেগুলো আবার ওয়েবসাইটে দেখা যায়। ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল হক জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রতীকটি সরানো হয়।
এই বিষয়ে বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “নৌকা প্রতীকটি এখনও নির্বাচনী তপশিলে রয়েছে। তবে বিভ্রান্তি এড়াতে ওয়েবসাইটে সাপ্লিমেন্টারি প্ল্যাটফর্ম থেকে এটি সরিয়ে রাখা হয়েছে। এটি আর কোনো দল ব্যবহার করতে পারবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, “ইসি কোনো চাপের মুখে নয়, নিজেদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরত দেওয়ার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দলটির নাম ও প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়েছে। তবে আলোচিত ‘শাপলা’ প্রতীক এখনও তপশিলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
এই বিতর্কের পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনার ছোঁয়া স্পষ্ট। মঙ্গলবার রাতে একটি ফেসবুক পোস্টে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে লেখেন, “অভিশপ্ত নৌকা মার্কাটাকে আপনারা কোন বিবেচনায় আবার শিডিউলভুক্ত করলেন? এই গণঅভ্যুত্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন কেন?”
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ১২ মে দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে ইসিও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।
এই প্রেক্ষাপটে ১৩ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে ‘নৌকা’ প্রতীকটি তপশিল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায়। দলটির পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়।
তবে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সেদিনই জানান, “নিবন্ধন স্থগিত হলেও প্রতীক কখনও নিষিদ্ধ হয় না। দল বিলুপ্ত হলেও প্রতীক কমিশনের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলকে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।”
এই ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে, তেমনি সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে—নিবন্ধন স্থগিত হওয়া একটি দলের প্রতীক কীভাবে ওয়েবসাইটে বহাল থাকে?
তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন



