বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও দুটি উড়োজাহাজ, লক্ষ্য আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ

নিমান বাংলাদেশ

বিমান বাংলাদেশ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আরও দুটি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বিদ্যমান দুটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের লিজ মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা ফেরত দিতে হচ্ছে বিমানকে। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই নতুন এয়ারক্র্যাফট যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থা। ফলে বহরের মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা আগের মতোই ২১টিতে স্থির থাকবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাফিকুর রহমান জানান, “দুটি বোয়িং ৭৩৭ এর লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে ক্যাপাসিটির ঘাটতি দেখা দেবে। এই ঘাটতি পূরণে নতুন দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এগুলো বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, “এখনও চূড়ান্ত হয়নি যে এই দুটি উড়োজাহাজ বোয়িং না এয়ারবাস হবে। আমরা সরাসরি লিজিং কোম্পানি বা উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন হয়।”

প্রচেষ্টার মধ্যেও বাধা

সূত্র বলছে, বহরে থাকা ৬টি বোয়িং ৭৩৭-এর মধ্যে দুটি লিজকৃত উড়োজাহাজ ফেরত দেওয়ার দরকার পড়ছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চারবার দরপত্র আহ্বান করলেও কাঙ্ক্ষিত উড়োজাহাজ পাওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) ১৫ বছরের বেশি পুরোনো উড়োজাহাজ লিজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে অনেক প্রস্তাবই নন-রেসপন্সিভ হয়ে পড়ে।

বর্তমানে বিমানের পক্ষ থেকে সরাসরি লিজিং প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যা শেষ হতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সফল হলে বিমানের পক্ষে লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ২৮টি উড়োজাহাজ

বিমান সূত্র জানায়, নতুন করে উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় কোম্পানি ১৪টি করে মোট ২৮টি উড়োজাহাজের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এসব প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য টেকনো ফিন্যান্সিয়াল কমিটির কাজ চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর বিমান পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে।

আন্তর্জাতিক গন্তব্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৫টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে, যার মধ্যে ১৭টি আন্তর্জাতিক। ভবিষ্যতে আরও ৪৩টি দেশে রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে ওয়াইড বডি এয়ারক্র্যাফট সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও চট্টগ্রামের শাহ আমানত এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও বিমানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দেশের অভ্যন্তরে ও বিশ্বের ১৬টি শহরে যাত্রীসেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান।

Read Previous

মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া রাখতে হবে ‘পাবলিক’ — নতুন নীতিমালা

Read Next

বলিউডের ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালী জারিওয়ালার অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া বিনোদন অঙ্গনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular