
আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করা যাবে ফ্লাইটের টিকেন কেনায়
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশ ভ্রমণকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং নিয়মবদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন অনুমোদন দিয়েছে। এখন থেকে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকরা দেশে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিমান সংস্থার টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে কিনতে পারবেন। এতদিন এই বিষয়ে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেকেই টিকিট কেনায় অসুবিধায় পড়তেন। নতুন নির্দেশনা সেই ঝামেলা দূর করলো।
বুধবার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, ভ্রমণকারীর সুবিধা বাড়ানো এবং বিমানবাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বাড়ালে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ এবং স্বচ্ছ।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—টিকিট বিক্রির সব অর্থ অবশ্যই বাংলাদেশে পরিচালিত অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে সঠিকভাবে নথিভুক্ত হবে এবং অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
টিকিট কেনার পরে আন্তর্জাতিক কার্ড পুনরায় রিফিল করার ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম যুক্ত হয়েছে। FE Circular No. 37/2025–এর অনুচ্ছেদ 9 অনুযায়ী ভ্রমণ অধিকারের অধীনে যেসব আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা হয়, সেগুলো টিকিট কেনায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত পুনরায় রিফিল করা যাবে। তবে রিফিলের আগে AD ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে যে টিকিটের মূল্য পুরোপুরি বাংলাদেশেই আদায় হয়েছে। প্রতিটি রিফিলের জন্য আলাদা রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
বিমান সংস্থাগুলো তাদের আয় আগের মতো বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের অধীনে FC অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারবে। GFET 2018–এর অধ্যায় 13-এর অনুচ্ছেদ 33 অনুযায়ী এই নিয়ম আগে থেকেই ছিল, এবার এর পরিসর আরও বিস্তৃত হলো। তবে স্থানীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইনের ক্ষেত্রে অর্জিত অর্থ টাকায় রূপান্তর করা বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক বা বিদেশি মালিকানাধীন এয়ারলাইনগুলো চাইলে FC অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ বিদেশে যোগ্য আয় হিসেবে পাঠাতে পারবে, মুদ্রা রূপান্তরের ঝামেলা ছাড়াই।
AD ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত রিপোর্টিং রুটিন বজায় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু ও ব্যবহারের অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
সংক্ষেপে, নতুন এই সিদ্ধান্ত বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি আনছে। দেশে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট কেনা সহজ হলো, ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক হিসাব নিশ্চিত হলো, আর বিমান ভ্রমণ বাজারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা—দুটোই বাড়লো।



