
হায়াত প্লেস ঢাকা
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : উত্তরায় আন্তর্জাতিক আতিথেয়তার নতুন অধ্যায় খুলে গেল। হায়াত হোটেলস কর্পোরেশন অবশেষে বাংলাদেশে তাদের প্রথম হোটেল চালু করল—হায়াত প্লেস ঢাকা উত্তরা। আজ ১৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়া এই হোটেল শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং উত্তরার ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
হোটেলটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে। ফলে ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, এয়ারলাইন ক্রু কিংবা ট্রানজিট যাত্রী—সবাইয়ের জন্যই দ্রুত পৌঁছে যাওয়ার সুবিধাটাই এখানে বড় আকর্ষণ। ঢাকায় নেমেই ঝামেলামুক্তভাবে বিশ্রামের জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা যেন এখানেই মিলবে।
ভিতরে ঢুকলে বোঝা যায় হায়াত তাদের স্বভাবসুলভ আধুনিকতা ধরে রেখেছে। ৮৫টি রুমের প্রতিটিই সমসাময়িক ডিজাইন, প্রশস্ততা এবং আরামের মিশেলে সাজানো। কিং, টুইন, এমনকি রানওয়ে ভিউ রুম—সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য বিকল্প আছে। রানওয়ের দিকে তাকিয়ে সূর্যাস্ত দেখা বা রাতের আলোয় বিমান ওঠা-নামা দেখা—এসবই অতিথিদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেবে।
খাবারের ক্ষেত্রেও হোটেলটি বেশ প্রস্তুত। ‘জিং’ রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হবে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নানা পদ। সাথে আছে ‘দ্য মার্কেট’, যেখানে দ্রুত কিছু খেতে চাইলে পাওয়া যাবে হালকা খাবার। আর দিনের শেষে এক চুমুক পানীয় বা আড্ডার জন্য অপেক্ষা করছে ‘জিং স্কাইবার’—উত্তরার নতুন রুফটপ আকর্ষণ, যেখানে বসে রানওয়ের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করা যাবে।
ব্যবসায়িক আয়োজনের জন্যও হায়াত প্লেস যেন পরিকল্পিতভাবেই তৈরি হয়েছে। রয়েছে ২০০ জন ধারণক্ষমতার ডাইনিং স্পেস, ব্যাঙ্কুয়েট হল, আধুনিক মিটিং রুম। গার্মেন্টস শিল্প, আমদানি-রপ্তানি বা আন্তর্জাতিক ব্যবসা সংশ্লিষ্ট অতিথিদের জন্য এই হোটেল হবে একটি সুবিধাজনক বেস। গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এবং আসন্ন মেট্রো সংযোগের কাছাকাছি অবস্থান এটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার কেভিন থমাস ম্যাকইনটাইর জানান, বিমানবন্দরের এত কাছে অবস্থিত হওয়ায় এবং ২৪ ঘণ্টার সেবা সুবিধা থাকার কারণে হায়াত প্লেস ঢাকা উত্তরা অতিথিদের অভিজ্ঞতায় নতুন উচ্চতা যোগ করবে। তার মতে, উত্তরার প্রথম আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডেড আপস্কেল হোটেল হিসেবে এটি এলাকার আতিথেয়তা খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
সব দিক মিলিয়ে হায়াত প্লেস ঢাকা উত্তরা শুধু একটি নতুন হোটেল নয়—উত্তরার দ্রুতবর্ধনশীল নগর কাঠামো, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ট্রাভেল ইকোসিস্টেম এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রবাহের সাথে এক শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী, এয়ারলাইন ক্রু কিংবা স্থানীয় করপোরেট টিম—সবাইয়ের জন্যই এটি হতে পারে এক নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।
বুকিং বা বিস্তারিত জানতে ভিজিট করা যাবে হায়াতের ওয়েবসাইটে: hyattplace.com



