
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পশ্চিম সাহারা এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশ এটিকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, আবার কার্যত এর বড় অংশ মরক্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম সাহারা ভ্রমণ করতে চাইলে আলাদা কোনো ভিসা নয়, মরক্কোর ভিসা লাগবে।
কোন ভিসা লাগবে
পশ্চিম সাহারার জন্য আলাদা কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। মরক্কোর ভিসাই পশ্চিম সাহারায় প্রবেশের বৈধ কাগজ হিসেবে গণ্য হয়। তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের মরক্কোর ভিসা নিতে হবে।
কী কী কাগজপত্র লাগবে
মরক্কোর ভিসা আবেদন করতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
- ছয় মাস মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট
- পূর্ণাঙ্গ ভিসা আবেদন ফর্ম
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে)
- হোটেল বুকিং বা থাকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত কাগজপত্র
- রিটার্ন এয়ার টিকিট বা ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রমাণ
- সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক সক্ষমতার কাগজপত্র
- ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স (যদি প্রযোজ্য হয়)
- চাকরিজীবীদের জন্য অফিস থেকে এনওসি বা অনুমোদনপত্র
ভিসা ফি ও সময়
ঢাকায় কার্যরত বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী মরক্কো ভিসার ফি সাধারণত ৯,৫০০ থেকে ১১,৫০০ টাকার মধ্যে। দ্রুত প্রসেসিং চাইলে ফি কিছুটা বেশি হতে পারে। সাধারণভাবে ভিসা ইস্যু হতে ৭ থেকে ১০ কার্যদিবস লাগে।
কোথায় আবেদন করবেন
বাংলাদেশে মরক্কোর সরাসরি কোনো দূতাবাস নেই। তবে ঢাকার অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সিগুলো মারফত মরক্কোর ভিসার আবেদন করা যায়। এসব এজেন্সি ভিসা ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে সব ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে সহায়তা করে।
ভ্রমণ সতর্কতা
- পশ্চিম সাহারার রাজনৈতিক অবস্থা এখনও অস্থির, তাই সীমান্ত বা সেনা চেকপোস্টে বাড়তি জটিলতা হতে পারে।
- মরক্কো ভিসা থাকলেও সীমান্ত কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া গভীর মরুভূমি অঞ্চলে যাওয়া নিরাপদ নয়।
- প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় পাসপোর্টে সঠিকভাবে সিল মারা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
শেষ কথা
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পশ্চিম সাহারা ভ্রমণের একমাত্র উপায় মরক্কো ভিসা। তাই যাত্রার আগে মরক্কোর কূটনৈতিক মিশন বা অনুমোদিত এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ নিয়ম ও শর্ত জেনে নেয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।



