
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকা–ম্যানচেস্টার–ঢাকা রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক ব্যাখ্যামূলক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ সিদ্ধান্ত কোনও হঠকারী পদক্ষেপ নয়; বরং বহর ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং অপারেশনাল সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়েছে।
বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা ও সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটটি দীর্ঘপথের হওয়ায় একটি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ একাধিক দিন ধরে ব্যস্ত থাকে। অথচ বিমানের কাছে বর্তমানে সীমিতসংখ্যক বোয়িং ৭৮৭ ও ৭৭৭ উড়োজাহাজ রয়েছে, যেগুলো একই সঙ্গে ইউরোপ, হজ ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুটে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ম্যানচেস্টারের মতো তুলনামূলকভাবে অলাভজনক রুট চালু রাখলে সামগ্রিক বহর ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হজ মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরা যাত্রীদের চাহিদা থাকে অত্যন্ত বেশি। এসব বাস্তবতায় সীমিত উড়োজাহাজকে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ও কার্যকর রুটে ব্যবহার করাই অপারেশনালভাবে যুক্তিসংগত বলে মনে করছে বিমান।
এ ছাড়া নিয়মিত সি-চেক, ইঞ্জিন ওভারহল এবং কাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে একাধিক উড়োজাহাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য অপারেশনের বাইরে থাকে। এতে উড়োজাহাজ সংকট আরও তীব্র হয়। এর পাশাপাশি বৈশ্বিকভাবে বিদ্যমান ক্রু সংকট বিমানের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে, যেখানে দীর্ঘপথের ফ্লাইট পরিচালনার তুলনায় স্বল্পপথের ফ্লাইটে ক্রু ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কার্যকর।
এই সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অপারেশনাল স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা/সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিমান কর্তৃপক্ষ।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে লন্ডন রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে মোট পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে চারটি সিলেট হয়ে লন্ডন এবং একটি সরাসরি ঢাকা থেকে লন্ডন যাচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিতের কার্যকারিতা ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১ মার্চ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমান জানায়, ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীরা কোনও অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড বা ফ্লাইট পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন। চাইলে লন্ডন হয়ে যাত্রাপথ পরিবর্তন বা সুবিধাজনক অন্য তারিখে ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ করা যাচ্ছে, যেখানে কোনও অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হচ্ছে না।
ম্যানচেস্টার রুট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ ও ক্রু নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং যথাসময়ে তা জানানো হবে।



