
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ক্রীড়া ও কূটনীতির অনন্য মেলবন্ধনে ঢাকায় শুরু হয়েছে ষষ্ঠ অ্যাম্বাসি ফুটবল ফেস্ট। বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ৩৫টি দল, যেখানে মোট ৪৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
উত্তরার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মাঠে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবছর অংশগ্রহণের দিক থেকে এটি একটি রেকর্ড আয়োজন। ৩১টি বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সাতজনের দল নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গভীরতা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “এই আয়োজন শুধুই একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়। এটি শান্তি, ঐক্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সরাসরি খেলায় অংশগ্রহণ এই উৎসবের আন্তরিক পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
সৌদি এয়ারলাইন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব ও নকআউট মিলিয়ে খেলা হচ্ছে মোট ৪৩টি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি ১০ মিনিটের অর্ধে, যাতে খেলা থাকে দ্রুতগতির ও দর্শনীয়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সৌদি আরব এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো ডি মাসি, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি কেইনগলেট, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হুসেন ফকিরসহ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সৌদি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সালমান আলালি বলেন, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে এমন আয়োজনের পাশে থাকতে পেরে তারা গর্বিত।
টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ নানা দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। শনিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুলায়ে সেক এই আয়োজনকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গেমপ্লে লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অ্যাম্বাসি ফুটবল ফেস্ট প্রতিবছরই ক্রীড়া কূটনীতিকে কেন্দ্র করে দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য, সংলাপ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছে বিশ্বমঞ্চে।



