পর্যটকের অভিযোগে হাউসবোট ‘হাওরের সুলতান-৪’-এর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মামলা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জনপ্রিয় হাউসবোট ‘হাওরের সুলতান-৪’-এর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা দায়ের করেছেন ঢাকার এক পর্যটক। মাহাবুর আলম সোহাগ নামের ওই ভুক্তভোগী পর্যটকের অভিযোগের ভিত্তিতে আগামী ৬ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানির দিন ধার্য করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা

কী নিয়ে এই অভিযোগ?

মাহাবুর আলম সোহাগ জানান, চলতি বছরের ৭ জুলাই তিনি “হাওরের সুলতান-৪” হাউসবোটে থাকার জন্য ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত এজেন্ট মেহেদির মাধ্যমে রুম বুক করেন। বুকিং অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ জুলাই তারিখে এক রাত দুই দিনের জন্য একটি এসি কেবিন ও দুটি নন-এসি কেবিন মিলিয়ে মোট ৬২,৫০০ টাকার প্যাকেজ ঠিক হয়। এ থেকে ২,৫০০ টাকা ডিসকাউন্ট পেয়ে তিনি ৪০,০০০ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন।

যাত্রার আগের দিন হঠাৎ করে জানানো হয়, নির্ধারিত সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে নয়, বরং দূরবর্তী আনোয়ারপুর ঘাট থেকে বোট ছাড়বে। এতে সোহাগ ও তার সঙ্গীদের অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যদিও বোট কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু খরচ বহন করেছে, কিন্তু মূল সমস্যার শুরু হয় বোটে ওঠার পর।

প্রতারণার অভিযোগ

অভিযোগে সোহাগ উল্লেখ করেন, তিনজনের রুম বুকিং ও অর্থ পরিশোধ করা সত্ত্বেও তাদের দেয়া হয় মাত্র একটি বেড বিশিষ্ট দুইজনের রুম, যেখানে তিনজনের পক্ষে থাকা একেবারেই অসম্ভব ছিল। পাশের বড় রুমটি খালি থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তাদের সেই রুমে স্থানান্তর করেনি। বিষয়টি বোট ম্যানেজার সেলিমকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উল্টো বাকি টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ

সোহাগ আরও অভিযোগ করেন, বোট ম্যানেজার সেলিম তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন এবং কথা বলার ভঙ্গি ছিল অপমানজনক। এছাড়া প্রচার করা খাবারের তালিকার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল ছিল না। খাবারের গুণগত মান ও পরিমাণ উভয়ই ছিল হতাশাজনক।

এজেন্ট অফিসে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সাড়া পাননি সোহাগ। এছাড়া পুরো টাকা পরিশোধ করলেও রশিদ চাওয়া সত্ত্বেও তাকে তা দেয়া হয়নি। তার দাবি অনুযায়ী, বোটে অবস্থান করার কথা ছিল নীলাদ্রি (শহীদ সিরাজ লেক) এলাকায়, কিন্তু বাস্তবে রাতে তাদের রাখা হয় টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এই অভিযোগের বিষয়ে ‘হাওরের সুলতান-৪’-এর এমডি রুহুল আমিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকার ওই এজেন্টকে বাতিল করা হয়েছে এবং খাবারের মান নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সুনামগঞ্জ হাউসবোট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেনও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

পরবর্তী শুনানি

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আগামী ৬ আগস্ট মামলার শুনানির জন্য উভয় পক্ষকে সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে হাজির হতে বলেছে।

Read Previous

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে মুন্সিগঞ্জ — নতুন সম্ভাবনার পর্যটন গন্তব্য

Read Next

শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টির দাপট, পর্যটকদের জন্য পরিকল্পনায় পরিবর্তনের আহ্বান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular