
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: মুন্সিগঞ্জ — রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী এই জেলাটি শুধু পদ্মার পাড়, পদ্মা সেতু বা ইলিশ মাছের জন্য নয়, বরং ইতিহাস-ঐতিহ্য, নদীভিত্তিক জীবনধারা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্যও পর্যটকদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
এখানে রয়েছে এমন সব স্থান, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের দারুণ সুযোগ এনে দেয়। চলুন জেনে নিই মুন্সিগঞ্জের প্রধান পর্যটন এলাকা ও আকর্ষণগুলো সম্পর্কে।
ইদ্রাকপুর কেল্লা — বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গ
১৬৬০ সালে মুগল সুবাদার মীর জুমলা কর্তৃক নির্মিত এই দুর্গটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সংরক্ষিত দুর্গ স্থাপনাগুলোর একটি। এটি মূলত পর্তুগিজ জলদস্যু ও আরাকানিদের আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহার করা হতো। ইদ্রাকপুর কেল্লা বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের অধীনে সংরক্ষিত এবং প্রতিদিন শতাধিক দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে।
মাওয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু এলাকা — নদীমাতৃক সৌন্দর্যের সাক্ষাৎ রূপ
পদ্মা সেতুর দৃষ্টিনন্দন রূপ, সেই সঙ্গে নদীপাড়ের আবহ ও স্পিডবোটে ভ্রমণ — সব মিলিয়ে মাওয়া ঘাট এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা দেয়। নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং রিভারভিউ কটেজগুলোতে রয়েছে রাত কাটানোর সুযোগ।
লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ির ইলিশ পাড়া — খাদ্য পর্যটনের এক স্বর্গ
লৌহজং উপজেলার মাওয়া ও কাঠালবাড়ি অঞ্চলে বর্ষার মৌসুমে পদ্মার ইলিশের স্বাদ নিতে ছুটে আসেন হাজারো খাদ্যরসিক পর্যটক। এখানকার সরাসরি পদ্মা নদী থেকে ধরা ইলিশের স্বাদ ও ঘ্রাণ অতুলনীয়।
শ্রীনগরের দেউলবাড়ি দীঘি ও পদ্মাবিল — প্রকৃতির কোলে সময় কাটানোর সুযোগ
শ্রীনগরের দেউলবাড়ি দীঘি শুধু স্থানীয় ইতিহাস নয়, পাখি পর্যবেক্ষণের জন্যও বিখ্যাত। শীতকালে দেশি-বিদেশি পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখর থাকে এলাকা। এছাড়া পদ্মাবিল অঞ্চল বর্ষায় নৌকা ভ্রমণের জন্য অনন্য।
বই ও বিদ্যার শহর — বিক্রমপুরের ঐতিহ্য
মুন্সিগঞ্জ তথা প্রাচীন বিক্রমপুর বহু জ্ঞানী-গুণীর জন্মস্থান। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু, সমাজ সংস্কারক স্যার চন্দ্রনাথ বসু, সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন — এঁদের শিকড় এই মাটিতে। বিক্রমপুর জাদুঘর ও লাইব্রেরি আগ্রহীদের জন্য ভিন্নধর্মী এক গন্তব্য
গ্রামীন হোমস্টে ও রিভার ক্রুজ — ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জে গড়ে উঠছে কিছু রিভারসাইড হোমস্টে ও নৌভ্রমণ সেবা। পর্যটকরা চাইলে নদীর বুকেই কাটাতে পারেন একটি রাত, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সাথে অংশ নিতে পারেন মাছ ধরার আনন্দে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা
ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ পৌঁছাতে মাত্র ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এ পথ আরও সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
পর্যটন সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুন্সিগঞ্জের পর্যটনকে ঘিরে এক নতুন ইকোনমিক জোন গড়ে উঠতে পারে। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সরকারি সহায়তা পেলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।



