
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আবারো ফিরে পাচ্ছে তার পুরনো সৌন্দর্য। কয়েক মাস ধরে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ থাকায় দ্বীপের প্রকৃতি যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
দ্বীপের স্থানীয়রা বলছেন, আগে যেখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের ভিড়ে সৈকত, প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, এখন সেখানে আবার জীবনের সঞ্চার দেখা যাচ্ছে। স্বচ্ছ নীল পানি, বালুময় সৈকত আর চারদিকে নিস্তব্ধ প্রকৃতি—সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিন যেন নতুন করে জেগে উঠছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটির পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর এক কর্মকর্তা জানান, “প্রবাল ও সামুদ্রিক জীবের প্রজননের জন্য এটি এখন এক অনুকূল সময়। এই ধারা বজায় রাখতে হলে পর্যটনকে সম্পূর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব করতে হবে।”
স্থানীয়দের অনেকেই আশা করছেন, নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ব্যবস্থা করা গেলে সেন্টমার্টিন আবারও তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পারবে।
প্রকৃতির এই পুনর্জাগরণই মনে করিয়ে দিচ্ছে—সেন্টমার্টিনের টিকে থাকার শর্ত হলো ভারসাম্য। প্রকৃতি যতটা দেয়, ততটাই নিতে জানলে এই ছোট্ট দ্বীপ আবার হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের নীল মুক্তা।



