
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : পঞ্চগড়ের উত্তরে বাতাসের চরিত্র বদলে গেছে। দিনের শেষে যে হিমেল ছোঁয়া নেমে আসে, সেটি আর হঠাৎ পাওয়া ঠান্ডা নয়—এবারের শীত সত্যিই এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়। দিনের রোদ যথেষ্ট তীব্র, হাঁটতে বের হলে গরমই লাগে। কিন্তু রাত নামলেই তাপমাত্রা এমনভাবে কমে যে কম্বল ছাড়া থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
গত দশ দিনের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে একের পর এক দিনে। বুধবার সকাল ৯টায় রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও আগে ভোরে ছিল ১৩ ডিগ্রি, আর বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। তাপমাত্রার এই দ্রুত ওঠানামা পুরো এলাকায় শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করছে।
হিমালয়ের পাদদেশে হওয়ায় পঞ্চগড়ের শীত সাধারণত অন্য জেলার তুলনায় বেশি অনুভূত হয়। দিনে তাপমাত্রা থাকে ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রির মতো, কিন্তু রাতের বেলায় সেটা নেমে আসে ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রিতে। সপ্তাহজুড়ে এই কমবেশির ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। মঙ্গলবার ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সোমবার ১৩ দশমিক ৪, আর তারও আগের দিনে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে শীতের পদচারণা বেশ স্পষ্ট।
রোববার সকালে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা ছিল ঘন। সূর্য উঠতে দেরি করায় গ্রামের রাস্তা, ফসলের মাঠ আর শহরতলির অলিগলি সাদাটে পর্দায় ঢাকা ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বেলা বাড়তেই সেই পর্দা সরিয়ে দেয় তীব্র রোদ, আর শুরু হয় ঠান্ডা–গরমের লুকোচুরি।
শহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বললেন, দিনে রোদ এতটাই তেজি যে মনে হয় গরম পড়ছে, কিন্তু রাত হলেই হালকা ঠান্ডা নয়—একেবারে শীতের কাঁপুনি। কম্বল ছাড়া ঘুমানোর উপায় থাকে না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তাপমাত্রা আরও ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি কমে যেতে পারে। উত্তরাঞ্চলে হালকা বা মাঝারি শৈতপ্রবাহের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তার ভাষায়, দিনে গরম থাকলেও রাতে ঠান্ডার ধাক্কা আরও জোরালো হতে পারে।
এদিকে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদেও এর প্রভাব পড়েছে। দিনের বেলা এখনো পাতলা পোশাকেই আরাম লাগছে, কিন্তু রাত হলেই সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল বের করে আনতে হচ্ছে। বাজারে গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। অনেকে ঘর গরম রাখতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বিশেষ করে যারা খোলামেলা বা উন্মুক্ত জায়গায় থাকেন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, এমন আবহাওয়া বদলের মৌসুমে ঠান্ডা, কাশি, জ্বর বা হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে। তাই শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার।
সব মিলিয়ে পঞ্চগড়ে শীত আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে আসার অপেক্ষায় নেই। রাতের হিমেল হাওয়া আর কমতে থাকা তাপমাত্রা জানিয়ে দিচ্ছে—উত্তরের শীত এ বছর বেশ আগেই জমাট বাঁধতে চলেছে।



