নলজুড়ি: সিলেটের হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা ‘বাংলার কাশ্মীর’

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:নলজুড়ি, গোয়াইনঘাট, সিলেট

সবুজ মাঠ, উঁচু পাহাড়, ঝরনাধারা আর স্বচ্ছ জলের খাল—এ যেন প্রকৃতির আপন হাতে আঁকা এক নিখুঁত চিত্রপট। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে অনেকেই এখন একে বলছেন ‘বাংলার কাশ্মীর’, আবার কেউ কেউ ডাকছেন ‘সিলেটের পেহেলগাম’ নামে। প্রকৃতির অপরূপ এই সৌন্দর্য মেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ছোট্ট এক জনপদ—নলজুড়ি

ভাইরাল ভিডিওর পেছনের জনপদ

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা যায়—সবুজ মাঠের মাঝে ক্রিকেট খেলছে একদল তরুণ, পেছনে পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে ঝরনার স্রোত। অনেকে এই জায়গাটিকে চেনেন খাসি হাওর বা খাসিয়া হাওর নামে। কারণ, এর ঠিক পেছনে অবস্থিত মেঘালয়ের জৈন্তা-খাসিয়া পাহাড়—যেখানে আদিকাল থেকে বসবাস করে আসছেন খাসিয়া জনগোষ্ঠী।

যাত্রা নলজুড়ির পথে

সিলেট শহর থেকে বাইকে করে প্রায় ৫১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় নলজুড়ি বাজারে। পথে চোখে পড়ে শ্রীপুর, রাংপানি, মোকামপুঞ্জি, আর আলুবাগান। দুই পাশে ধানক্ষেত, ঝিরঝির বৃষ্টি, আর রঙবেরঙের ফুলে ভরা গাছের সারি—এ যেন এক স্বপ্নযাত্রা।

বাজার থেকে একটু এগোতেই দেখা মেলে সবুজে ঘেরা সেই মাঠটির, যেটি এখন হয়ে উঠেছে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। পাশেই স্বচ্ছ জলের খাল, যেটিকে স্থানীয়রা ‘নলজুড়ি খাল’ বা ‘খাসি খাল’ বলে ডাকেন। এটি জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমারেখা হিসেবেও কাজ করে।

ঝরনার নীচে খেলার মাঠ

সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হলো—উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা দুটি ঝরনার ধারা মাঠের দিকে গড়িয়ে পড়ছে। বর্ষার সময়ে পানির স্রোত এতটাই প্রমত্ত হয়ে ওঠে যে, ঝরনার পানি চলে আসে মাঠের মধ্যেই। পেছনে দুলছে সারি সারি সুপারিগাছ, পাহাড়ের ঢালে খেলছে রোদ আর ছায়া।

পাহাড়ের পাদদেশে বয়ে চলেছে শান্ত নদী। স্থানীয় মানুষের কাছে এটা ‘খাসী নদী’ নামে পরিচিত।

 

পর্যটকদের জন্য এক নির্জন স্বর্গ

নলজুড়ি এখনো অতিরিক্ত পর্যটনের চাপে পড়েনি। যারা প্রকৃতির কাছে নির্জনতায় সময় কাটাতে চান, কোলাহল এড়িয়ে একটু নিঃশব্দ, নির্মল পরিবেশে থাকতে ভালোবাসেন—তাঁদের জন্য নলজুড়ি হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য। এখানে নেই কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা, নেই কৃত্রিম সাজসজ্জা—শুধুই প্রকৃতির নিঃস্বার্থ সৌন্দর্য।

করণীয় ও পরামর্শ

নলজুড়ি ভ্রমণের সময় পরিবেশের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি। ঝরনা বা খালে কোনো ধরনের ময়লা ফেলা যাবে না। স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন।

নলজুড়ি এখন আর নিছক একটি গ্রাম নয়, এটি হয়ে উঠছে বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক। সিলেটের মনোমুগ্ধকর এই জনপদটির সৌন্দর্য যত ছড়িয়ে পড়ছে, ততই বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। তবে সেই আগ্রহ যেন প্রকৃতির ভার বহন করতে পারে—এই চেষ্টাটুকু আমাদের সবার।

 

Read Previous

প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা গ্রীসের কারপাথস দ্বীপ

Read Next

থাই ই-ভিসা: হোটেল বুকিং নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা দূতাবাসের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular