
পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক: রাজধানীর বনশ্রী ও আফতাবনগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন ও পরিবহন সহজ করতে ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ‘নড়াই নদী’-র উপর দুটি নতুন সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। এ সেতুগুলো নির্মিত হলে এ দুই আবাসিক এলাকার মধ্যে যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি নগর পর্যটনের জন্যও তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
শনিবার (১৯ জুলাই) বনশ্রী খালপাড় এলাকায় আয়োজিত ‘ময়লা পরিষ্কার ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এ ঘোষণা দেন। সমমনা পরিষদ, বনশ্রী-এর উদ্যোগে এবং ডিএনসিসির সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
তিনি বলেন, “আফতাবনগর থেকে বনশ্রী যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এখন প্রধান সড়ক। এই ভোগান্তি দূর করতে নড়াই নদীর উপর দুটি সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতুগুলোর নাম রাখা হবে ‘নড়াই সেতু’। এতে এলাকাবাসীর যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি দুই এলাকার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, যে খালটিকে বনশ্রী খাল নামে ডাকা হয়, সেটি আশির দশক পর্যন্ত ছিল একটি প্রবাহমান নদী—নড়াই নদী। দখলদারদের কারণে এর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে এটি খালে পরিণত হয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় এখন এটি আবার ‘নড়াই নদী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসক বলেন, “এই নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করতে পারলে রামপুরা থেকে শুরু করে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বালু নদী হয়ে সদরঘাট ও মিরপুর পর্যন্ত নৌযাত্রা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এটি রাজধানীর মধ্যে নতুন একটি নৌপর্যটন পথ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে, যা নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের দিকেও নজর দেবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর অভ্যন্তরে নৌপথভিত্তিক পরিবহন ও নগর পর্যটনে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



