
সেন্টমার্টিন দ্বীপ, ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:
প্রবালপ্রাচীর, সাদা বালির সৈকত আর পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এই দ্বীপ সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানা
মালয়েশিয়ার পাহাং প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত তিওমান দ্বীপ (Tioman Island) অনেকদিন ধরেই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে স্বর্গের সমান। ১৯৭০-এর দশকে টাইম ম্যাগাজিন এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপগুলোর একটি ঘোষণা করেছিল। এখনও তার প্রাকৃতিক রূপ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে যাচ্ছে।
প্রধান আকর্ষণ
- সাদা বালির সৈকত – সালাং, এয়ার বাতাং, টেকেক ও জুয়ারা সৈকত সাঁতার, রোদ পোহানো ও বিশ্রামের জন্য আদর্শ।
- স্কুবা ডাইভিং ও স্নরকেলিং – দ্বীপের চারপাশে প্রবালপ্রাচীর, রঙিন মাছ, সামুদ্রিক কাছিম ও নানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী দেখা যায়।
- জঙ্গল ট্রেকিং – দ্বীপের অভ্যন্তরে ঘন সবুজ বন, জলপ্রপাত এবং বিরল পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাস।
- ডিউটি-ফ্রি শপিং – টেকেক শহরে করমুক্ত দোকান থেকে সাশ্রয়ী দামে কেনাকাটার সুযোগ।
যাওয়ার উপায়
কুয়ালালামপুর বা সিঙ্গাপুর থেকে বাস বা গাড়িতে মেরসিং জেটি অথবা তানজুং গেমোক জেটি পর্যন্ত যেতে হয়। সেখান থেকে ফেরি বা স্পিডবোটে ১.৫–২ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় তিওমান দ্বীপে।
সেরা ভ্রমণ সময়
মার্চ থেকে অক্টোবর হলো পর্যটনের উপযুক্ত মৌসুম। এ সময় সমুদ্র শান্ত থাকে এবং ডাইভিং বা স্নরকেলিংয়ের জন্য পানির স্বচ্ছতা বেশি থাকে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মৌসুমি বৃষ্টির কারণে পর্যটন কিছুটা সীমিত হয়।
থাকার ব্যবস্থা ও খরচ
তিওমানে বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে শুরু করে বাজেট হোটেল—সব ধরনের থাকার ব্যবস্থা আছে।
- বাজেট রুম: ৫০–৮০ রিঙ্গিত (RM)
- মাঝারি রিসোর্ট: ১৫০–৩০০ RM
- বিলাসবহুল রিসোর্ট: ৪০০ RM বা তার বেশি
খাবারের মধ্যে সি-ফুড বিশেষ জনপ্রিয়—তাজা মাছ, চিংড়ি ও স্কুইডের বারবিকিউ ভ্রমণকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।
ভ্রমণ পরামর্শ
- প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক জীব রক্ষায় রিফ-সেফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- ডাইভিংয়ের আগে সঠিক প্রশিক্ষণ নিন।
তিওমান দ্বীপ শুধু একটি ভ্রমণস্থল নয়—এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে পাহাড়, সমুদ্র আর জঙ্গলের সৌন্দর্য মিলেমিশে তৈরি করে এক অপূর্ব স্বর্গভূমি।



