ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে স্থগিতাদেশের আবেদন

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : এলহাম ট্রাভেল কর্পোরেশনের মালিক মোহাম্মদ জুমান চৌধুরী সরকারের নতুন ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৬ স্থগিত করার দাবিতে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। বৃহস্পতিবার দাখিল করা এই আবেদনে বলা হয়েছে যে, অধ্যাদেশের কয়েকটি বিধান সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং আইনি সীমা অতিক্রম করে। ১ জানুয়ারি প্রকাশিত এই অধ্যাদেশ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে একে অপরের কাছ থেকে টিকিট কেনা-বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং শুনানি ছাড়াই নিবন্ধন স্থগিত করার ক্ষমতা প্রদান করে, যা শিল্পের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।

আবেদনকারীদের যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন নিয়মে ১০ লক্ষ টাকার নিরাপত্তা জামানত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা অনেক ক্ষুদ্র সংস্থার জন্য অসম্ভব। এছাড়া, উচ্চ জরিমানা এবং জেলের শাস্তির বিধান পূর্ববর্তী নিয়মের তুলনায় অনেক কড়া, যা এই খাতের উদ্যোক্তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। অধ্যাদেশটি নিয়োগ সংস্থাগুলোকে ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় কার্যক্রম চালানো থেকে বিরত রাখে, যা শিল্পের সমন্বিত কার্যপ্রণালীকে বিঘ্নিত করতে পারে। চৌধুরীকে দশজন ট্রাভেল এজেন্সি মালিক পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জের অনুমোদন দিয়েছেন, যা এই অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ATAB) এই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এটি কার্যকর হলে দেশজুড়ে প্রায় ৫ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, যাত্রীরা এই এজেন্সিগুলো থেকে টিকিট কেনার সুবিধা হারাবেন এবং ভ্রমণ শিল্পের সামগ্রিক নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে, নিবন্ধন নবায়নের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার বার্ষিক লেনদেনের প্রমাণ জমা দেওয়ার শর্ত অনেক সংস্থাকে বাদ দিয়ে দেবে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোর জন্য ধ্বংসাত্মক।

ভ্রমণ শিল্পের অংশীদাররা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই নিয়মগুলো দেশের ভ্রমণ পরিষেবা ব্যবস্থার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। আবেদনে বিতর্কিত বিধানগুলো বাতিল এবং অধ্যাদেশের গেজেট বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করার দাবি করা হয়েছে, যাতে আদালতের পর্যালোচনার সুযোগ পাওয়া যায়। এই মামলা ভ্রমণ খাতের ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির সাথে ব্যবসায়িক স্বাধীনতার সংঘাতকে তুলে ধরে।

Read Previous

সেন্ট মার্টিনের সাগরতল: এক আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফারের দুই মাসের অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশগত সঙ্কটের ছবি

Read Next

অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধের আহ্বানে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায় নীরব অঞ্চল গড়ার উদ্যোগ – পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular