
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, শব্দ দূষণ কমানো শুধু সরকারের একার কাজ নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিকের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সম্ভব। আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অকারণে হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশটি পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন অথরিটি) যৌথভাবে আয়োজন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ঘোষিত নীরব অঞ্চলে (সাইলেন্ট জোন) হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করা এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাকে হর্নমুক্ত করে একটি মডেল উদাহরণ স্থাপন করা। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো আমাদের একটি দীর্ঘদিনের খারাপ অভ্যাস। এটি পরিবর্তন করতে হবে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকলে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা শহরের প্রায় ৬৫ শতাংশ চালক উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে শ্রবণ প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। এছাড়া স্কুলগামী শিশুদের জন্য হর্নের তীব্র শব্দ অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, শব্দ দূষণের ফলে স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং এটি পরিবেশের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বিধিমালা গত নভেম্বর মাসে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতোই অকারণে হর্ন বাজানোর ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জরিমানা আরোপ করতে হবে। তিনি পুলিশকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
বিধিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ট্রাফিক পুলিশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই তরুণরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীর অংশ হয়ে নিয়মাবলী প্রয়োগে কাজ করছেন। বিমানবন্দর এলাকায় সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে রিজওয়ানা হাসান প্রস্তাব দেন। এতে এলাকাটিকে সম্পূর্ণ হর্নমুক্ত করে অন্যান্য এলাকার জন্য উদাহরণ স্থাপন করা যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আইনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগ ঢাকার শব্দ দূষণ কমানোর একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিমানবন্দর এলাকাকে সফলভাবে নীরব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে পুরো শহরে এই মডেল ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাগরিকরা যদি অভ্যাস পরিবর্তন করেন, তাহলে ঢাকা শহর আরও সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শব্দ দূষণ রোধে এখনই সময় এসেছে সকলে মিলে একযোগে কাজ করার।



