
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক
জার্মানির মধ্য-ডানপন্থী সরকার অভিবাসীদের জন্য চালু থাকা দ্রুত (ফাস্ট-ট্র্যাক) নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। এতদিন এই নীতির আওতায় অত্যন্ত যোগ্য অভিবাসীরা মাত্র তিন বছর দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারতেন।
ডয়চে ভেলে ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই সুবিধা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়নি। গত বছর মাত্র কয়েকশ অভিবাসী এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেন।
সরকার জানিয়েছে, লক্ষ্য কোনোভাবেই নাগরিকত্বের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা নয়। ক্ষমতায় আসার আগেই ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দল নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিশেষ সুবিধা বাতিলের অঙ্গীকার করেছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর চ্যান্সেলর ফ্রেদেরিখ মের্ত্স সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেন।
বাতিলের পক্ষে সমর্থন দেয় অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত এএফডি-ও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড বলেন, ‘ফাস্ট-ট্র্যাক প্রক্রিয়াটি নাগরিকত্বের মর্যাদা ও মূল্য কমিয়ে দিচ্ছিল। তাই এটি বন্ধ করা জরুরি ছিল।’
প্রসঙ্গত, সাবেক চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সময় চালু হওয়া এই প্রোগ্রামে আবেদনকারীদের উচ্চস্তরের জার্মান ভাষা দক্ষতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণের শর্ত ছিল। কিন্তু দ্রুত নাগরিকত্বের এই সুযোগ জার্মান রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা বাতিলের মধ্য দিয়ে অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।



