
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার সাময়িকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। দৃশ্যমানতা হঠাৎ করেই বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকামুখী একাধিক ফ্লাইটকে নির্ধারিত গন্তব্যে অবতরণ করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটটি ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ভোররাত থেকেই ঢাকার আকাশে ঘন কুয়াশা জমতে শুরু করে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার তীব্রতা আরও বেড়ে যায় এবং রানওয়ের দৃশ্যমানতা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার নিচে নেমে আসে। এ অবস্থায় ঝুঁকি এড়াতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়।
ডাইভার্ট করা ফ্লাইটগুলোর মধ্যে তিনটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয় চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এছাড়া একটি দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুনঃনির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দেশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তাই এখানে প্রধান বিবেচ্য। আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও অত্যধিক কুয়াশার মধ্যে অবতরণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এই ধরনের সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
হঠাৎ ফ্লাইট ডাইভারশনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হয়। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করেন এবং পরে ভিন্ন শহর বা দেশে অবতরণ করতে বাধ্য হন। তবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রীদের জন্য খাবার, হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং বিকল্প ফ্লাইটের সময়সূচি নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শীত মৌসুমে এমন ঘন কুয়াশা স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। উত্তর দিকের শীতল বাতাস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, সূর্যের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুতই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু হবে। এ সময় যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাময়িক এই অসুবিধা হলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।



