
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত মুন্সিবাড়ি বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য এক মনোমুগ্ধকর স্থান। ১৮৮০ সালে ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সি এবং তার স্ত্রী আশালতা মুন্সির তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই বাড়িটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং সময়ের সাক্ষী। কথিত আছে, একবার শিকার করতে গিয়ে ব্রজেন্দ্র লাল একটি ব্যাঙ সাপ ধরে খাওয়ার দৃশ্য দেখেন, যা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হত। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি মহারাণী স্বর্ণময়ী দেবীর অনুমতি নিয়ে মুন্সিবাড়ি নির্মাণ করেন।
স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থান
মুন্সিবাড়ির স্থাপত্য মোঘল ও ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে গড়া। বাড়ির প্রথম তলায় রয়েছে তিনটি বড় কক্ষ, একটি শয়নকক্ষ, ডাইনিং হল, রান্নাঘর, অঙ্কন কক্ষ, বিশ্রাম কক্ষ ও অতিথিশালা। পেছনের অংশে রয়েছে শিব মন্দির, দোলমঞ্চ, তুলসি বেদি, নাট মন্দির, দুর্গা মন্দির এবং কূপসহ স্নানাগার। মূল ফটকের পাশে কাঁঠালি গাছ ও শান বাঁধানো পুকুর ঘাট এই স্থাপনার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাওয়ার জন্য বাস বা ট্রেন উভয়ই সহজ ও সাশ্রয়ী। বাসে যাওয়া যায় আসাদগেট, কল্যাণপুর বা গাবতলি থেকে নাবিল, হক স্পেশাল, হানিফ, তানজিলা এবং এনা পরিবহণের মাধ্যমে। ভাড়া প্রায় ৯৫০-১৪০০ টাকা। ট্রেনে যাওয়া হলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বা রংপুর এক্সপ্রেসে সরাসরি যাওয়া সম্ভব, টিকিটের দাম ৬৪০-২১৯৭ টাকা। কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর স্থানীয় ইজিবাইক বা সিএনজি ব্যবহার করে মুন্সিবাড়ি পৌঁছানো যায়, যার খরচ প্রায় ৩০০-৫০০ টাকা।
থাকা ও খাওয়া
মুন্সিবাড়ির আশেপাশে বিশেষ কোনো হোটেল না থাকলেও কুড়িগ্রাম শহরে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। শহরে থাকার ব্যবস্থা করে মুন্সিবাড়ি ভ্রমণ করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। খাবারের খরচ সাধারণত ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দর্শনীয় স্থান
মুন্সিবাড়ির আশেপাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো স্থান রয়েছে। উলিপুর উপজেলার টুপামারী পুকুর একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। এছাড়া কুড়িগ্রাম শহরের ধরলা ব্রিজ ও বিজিবি পার্কও দর্শনীয়।
ভ্রমণ টিপস
- মুন্সিবাড়ির স্থাপত্যশৈলী ক্যামেরায় বন্দি করতে ক্যামেরা সঙ্গে রাখা জরুরি।
- বিকেল বেলা দর্শন করলে আলো-ছায়ার খেলা খুব সুন্দরভাবে দেখা যায়।
- স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে স্থানের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
মোট আনুমানিক খরচ এক ব্যক্তির জন্য প্রায় ২৪০০-৩৫০০ টাকা।
উলিপুর মুন্সিবাড়ি কেবল ঐতিহাসিক নয়, এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রাচীন স্থাপত্যের জীবন্ত নিদর্শন। ইতিহাস, স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে যারা ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি এক অনন্য গন্তব্য।



