
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পর্যটন সংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরে গোপনভাবে ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা ৭০০ জন ‘ভাড়াটে’ এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এজেন্টরা মূলত ইরানের অভ্যন্তরে গোয়েন্দাগিরি, নাশকতা এবং সাইবার হামলার প্রস্তুতির মতো কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। সাধারণ জনগণের তথ্য এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা অভিযানের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে যে, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে একটি গোপন অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এর আওতায় ইরানে একটি গোপন ঘাঁটি স্থাপন করা হয়, যেখান থেকে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা চলছিল।
এই ঘটনায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীতে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের তৎপরতা দেশে ‘মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তাহীনতা’ তৈরি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনেককে ইসরায়েলপন্থি মতামত প্রকাশের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তেহরানের প্রসিকিউটর অফিসে নতুন একটি বিশেষ ইউনিট গঠিত হয়েছে, যার মূল কাজ হলো সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করা।
এছাড়া, ইরানের অন্যান্য জাতীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে যে, সংঘাত শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি গুপ্তচরের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।



