১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসন্ন ঈদুল ফিতরে আকাশপথে যাত্রীদের চাপ: টিকিটের দাম বাড়ার আশঙ্কা তীব্র, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে প্রভাব

ঘন কুয়াশায় বিমান

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের আকাশপথে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়ি ফিরবেন বা প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হবেন, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই টিকিটের চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক রুটে—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার দিকে—দাম প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ারের মতো এয়ারলাইন্সগুলো ঈদের আগে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা করছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঘোষণা করেছে যে তারা অভ্যন্তরীণ রুটে ৪০টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এর মধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর রুট অন্তর্ভুক্ত। বেস ফেয়ার হিসেবে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ৫,৯৯৯ টাকা, বরিশালে ৩,৪৯৯ টাকা এবং অন্যান্য রুটে ৪,৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু চাহিদার চাপে এই দাম অনেক বেড়ে যেতে পারে। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ঢাকা-যশোর বা বরিশাল রুটে সাধারণ সময়ের ৩,৫০০-৪,৫০০ টাকার টিকিট ঈদের সময় ১০,০০০-১২,০০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। ঢাকা-সৈয়দপুর বা রাজশাহী রুটেও একই চিত্র। অনেক টিকিট ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে, যা দামের ঊর্ধ্বগতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

আন্তর্জাতিক রুটে পরিস্থিতি আরও জটিল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (সৌদি আরব, ইউএই, কাতার) কর্মরত প্রবাসীদের ঈদে দেশে ফেরার চাপ সবচেয়ে বেশি। সাধারণ সময়ের তুলনায় টিকিটের দাম দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা থেকে দুবাই বা জেদ্দা রুটে দাম অনেক বেড়ে যায়। ইউরোপ বা অন্যান্য দূরপাল্লার রুটেও একই প্রবণতা। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, রমজান ও ঈদের সময় ইকোনমি ক্লাসের টিকিট দাম দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। প্রবাসীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ অনেকে পরিবার নিয়ে দেশে আসেন। তবে কিছু এয়ারলাইন্স রমজান অফার দিচ্ছে, যেখানে ১৫-২৫% ছাড় পাওয়া যায়।

সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অতিরিক্ত দাম আদায়, ভুয়া টিকিট বিক্রি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে। মোবাইল কোর্ট সক্রিয় থাকবে। এছাড়া জেট ফুয়েলের দাম সামান্য বাড়লেও সরকার অ্যাভিয়েশন সারচার্জ কমিয়েছে, যা এয়ারলাইন্সের খরচ কিছুটা কমাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য না থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো অগ্রিম টিকিট বুক করা। যত আগে বুকিং করা যাবে, তত কম দাম পাওয়া যাবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ব্যাংকের অফার (যেমন ১০-১৭% ছাড়) এবং এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি বুকিং করলে সুবিধা পাওয়া যায়। শেষ মুহূর্তে বুকিং এড়িয়ে চলুন, কারণ তখন দাম সবচেয়ে বেশি হয়।

ঈদের এই যাতায়াত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে, কিন্তু যাত্রীদের সুবিধা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকার, এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। ঈদের আনন্দ যেন দামের চাপে ম্লান না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিবেদক : ইসলাম রাইসুল

Read Previous

বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন অধ্যাদেশ: যাত্রী সেবা উন্নয়নের পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা

Read Next

নরসিংদীর পলাশে লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি: ‘জামিনা মহল’-এ রূপান্তর, দেবোত্তর দাবি ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular