
নিজস্ব প্রতিবেদ। পর্যটন সংবাদ: চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সৈকত একসময় ছিল ঝাউগাছ, লাল কাঁকড়া আর সূর্যাস্তের রঙে ভরপুর এক মনোমুগ্ধকর সমুদ্রতট। স্থানীয়দের কাছে এটি ছিল ‘ঝাউবাগান’। কিন্তু সেই সৌন্দর্য আজ অনেকটাই ম্লান। এখনো পর্যটকের ভিড় আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো আর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অভাব পুরো পরিবেশকে হতাশাজনক করে তুলছে।
অব্যবস্থাপনা আর অন্ধকারের ভুতুড়ে পরিবেশ
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের প্রবেশপথেই পর্যটকদের টোল দিতে হয়, এ নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা বাধে। সৈকতের দুই পাশে দোকানপাট আর ঝুপড়ি বসে গেছে। জোয়ারে পানি এসে পৌঁছায় রাস্তা পর্যন্ত। তিন বছরে তিন শতাধিক ঝাউগাছ উপড়ে পড়েছে। লাল কাঁকড়ার দেখা মেলে না আগের মতো। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই সৈকতজুড়ে নেমে আসে ভুতুড়ে অন্ধকার।
পর্যটকদের অভিযোগ
ছুটির দিনে গড়ে পাঁচ হাজার মানুষ সৈকতে ঘুরতে আসেন। অথচ বসার জায়গা, মানসম্মত রেস্তোরাঁ বা রিসোর্ট নেই। মাত্র দুটি রেস্তোরাঁ, কিছু ঝুপড়ি দোকান আর দুটি পাবলিক শৌচাগার—সেটিও পানিহীন। স্থানীয় ইমরান হোসেন বলেন, “কম খরচে ঘোরার সুযোগ আছে, কিন্তু অব্যবস্থাপনায় বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়।”
উন্নয়ন প্রকল্প আটকে আছে
২০১৯ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ৭৯ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্প পরিচালক মাজেদুর রহমান জানান, কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে হস্তান্তর হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
স্থানীয়দের আক্ষেপ
সৈকতের দোকানি লেয়াকত আলী বলেন, “পারকির মূল আকর্ষণ ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখন লাল কাঁকড়াই নেই। তাই মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে।” উত্তর পাশে বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর পর্যটকেরা সৈকত ছেড়ে চলে যান বলেও জানান এক হোটেল কর্মচারী।
সারসংক্ষেপ
পারকি সৈকত এখনো জনপ্রিয়। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ঘাটতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্ষয়ে হারিয়ে যাচ্ছে তার আগের পরিচিতি। উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে শেষ না হলে পারকি হয়তো কেবল নামেই সৈকত হয়ে থাকবে।



