
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন পার্বত্য জেলায় টানা অবরোধে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়েছে। জুম্ম–ছাত্র জনতার ডাকা এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে সোমবার সকাল পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ, দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ এবং সড়ক ফাঁকা দেখা গেছে। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা এখনো বলবৎ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি পৌর শহরে সকাল আটটার দিকে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে শুধু অটোরিকশা, টমটম ও মোটরসাইকেল চললেও অন্যান্য যানবাহন নেই। মোড়ে মোড়ে সেনা, বিজিবি ও পুলিশের টহল রয়েছে। একাধিক স্থানে মানুষকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গুইমারা উপজেলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। গতকাল রোববার সেখানে সহিংসতায় তিন পাহাড়ি নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন, তাঁদের মধ্যে ১৩ সেনা সদস্য ও তিনজন পুলিশও আছেন। নিহতদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জুম্ম–ছাত্র জনতা।
সংগঠনটির মুখপাত্র দ্বীপায়ন ত্রিপুরা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চালিয়ে যেতে চাই, সবাইকে সে আহ্বান জানাই।” তবে বাস্তবে গুইমারার সাপ্তাহিক বাজার বসেনি, দোকানপাটও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, সকাল থেকে সেনা, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। অবরোধকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি এখনো চোখে পড়েনি।
গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং আদালত তাঁকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
এই ঘটনার বিচার ও সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে জুম্ম–ছাত্র জনতা আট দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে।



