
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই পর্যটনের (Sustainable Travel) ধারায় নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসছে বিভিন্ন দ্বীপ রাষ্ট্র ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন সংস্থা। জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় যেখানে এই অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে, ঠিক সেখান থেকেই উদ্ভাবিত হচ্ছে সবুজ পর্যটনের যুগান্তকারী ধারণা।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে কিরিবাতি, টুভালু, ফিজি, পালাউ, মার্শাল আইল্যান্ডস-এর মতো দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বই আজ হুমকির মুখে। তবে সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনার আলো দেখছেন অনেক পর্যটন পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় কমিউনিটি। সাস্টেইনেবল ট্রাভেল বা টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
নতুন উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী মডেল
১. ইকো-লজ রিসোর্ট: ফিজি ও ভানুয়াটুতে গড়ে উঠছে ইকো-লজ নির্ভর রিসোর্ট, যেখানে সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, স্থানীয় উপকরণে তৈরি নির্মাণ ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২.কার্বন-নিউট্রাল ক্রুজ: কিছু পরিবেশ-বান্ধব ক্রুজ কোম্পানি এখন ‘কার্বন-অফসেট’ প্যাকেজ চালু করেছে, যা ট্রাভেলারদের ভ্রমণের কার্বন ফুটপ্রিন্ট নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করে।
৩.কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম (CBT): টোঙ্গা ও সামোয়ার মতো দেশে স্থানীয়দের নেতৃত্বে পরিচালিত ভিলেজ ট্যুর, হোমস্টে ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে।
পর্যটকদের মনোভাবেও পরিবর্তন
জাতিসংঘের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের তরুণ পর্যটকদের মধ্যে প্রায় ৬৭% ট্রাভেলার এখন গন্তব্য নির্বাচনের সময় ‘পরিবেশবান্ধবতা’কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের সরকারগুলোও এই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যটন নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগ
বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (UNWTO) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে “সাস্টেইনেবল ট্যুরিজম জোন” ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছে। সেই সঙ্গে ‘ব্লু ইকোনমি’র আওতায় ইকো-ট্যুরিজমে বিনিয়োগ বাড়ছে।
টেকসই ভ্রমণের দৃষ্টান্ত হতে পারে প্রশান্ত মহাসাগর
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো কেবল জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমে তারা হতে পারে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ‘মডেল রিজিওন’। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে এক নতুন ভ্রমণ সংস্কৃতি।
পর্যটন বিশেষজ্ঞের মন্তব্য:
“সাস্টেইনেবল ট্রাভেল এখন আর শুধু বিকল্প নয়, বরং এটি প্রয়োজনীয়তা। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো এই বার্তাই বিশ্বকে দিচ্ছে—ভবিষ্যতের ভ্রমণ হতে হবে প্রকৃতিবান্ধব।”
— ড. আমেলিয়া রাইভা, পরিবেশ-পর্যটন গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ প্যাসিফিক
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী রক্ষায় প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তা শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং বিশ্ব পরিবেশ আন্দোলনের জন্যও এক অনন্য উদাহরণ।



