
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে হুমকির মুখে থাকা দ্বীপ রাষ্ট্র টুভালুর নাগরিকদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ব-প্রথম জলবায়ু ভিসা। জলবায়ু-সম্পর্কিত স্থানচ্যুতির হুমকির বিরুদ্ধে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে ভিসাধারীরা এখন অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন—যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশ পরিবেশ উদ্বাস্তুদের জন্য স্থায়ী অভিবাসনের ব্যবস্থা করল।
চলতি বছরের ১৬ জুন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়, চলবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত। প্রথম ধাপে শুধু টুভালুর নাগরিকরাই এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২৭ জুন পর্যন্ত মোট ১,১২৪টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে পরিবারের সদস্যসহ আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,০৫২ জনে। উল্লেখ্য, টুভালুর মোট জনসংখ্যা ১০,৬৪৩।
নতুন এই প্যাসিফিক এনগেজমেন্ট ভিসার আওতায় প্রতি বছর র্যান্ডম পদ্ধতিতে ২৮০ জন টুভালুবাসীকে নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিতরা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাস, স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার), শিশু যত্ন সহায়তা, শিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের মতো একই ভর্তুকিতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগও থাকবে।
আবেদনকারীদের জন্য এটি আর্থিক দিক থেকেও অনেক সহনীয়—প্রবেশ মূল্য মাত্র ২৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ২০২৪ সালের অস্ট্রেলিয়া-টুভালু ‘ফ্যালেপিলি ইউনিয়ন’-এর অংশ, যা জলবায়ু বিপর্যয়, স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ও সম্ভাব্য সামরিক হুমকি থেকে দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে রক্ষার অঙ্গীকার করে গঠিত হয়েছে।
টুভালুর প্রধানমন্ত্রী ফেলেতি তেও বলেন, “এই প্রথম কোনো দেশ টুভালুর রাষ্ট্রত্ব ও সার্বভৌমত্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের মুখেও আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই জলবায়ু ভিসা শুধু টুভালুর জন্য নয়, বরং সমগ্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য হুমকিপ্রবণ দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর ভবিষ্যতের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিবিসি নিউজ



