
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা বৈশ্বিক পর্যটন ও পরিবহন খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ইরানি পার্লামেন্ট।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েতসহ বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই পথের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এই পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শুধু জ্বালানি বাজারই নয়, মধ্যপ্রাচ্যমুখী পর্যটন এবং ভ্রমণ কার্যক্রমও বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিমান ও সমুদ্রপথে চলাচলে নিরাপত্তাজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী পর্যটকদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটবে এবং বিমানের রুট পুনঃনির্ধারণের ফলে ব্যয়ও বাড়বে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলে বেড়াতে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যাও হ্রাস পেতে পারে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ইসমাইল কোসারি দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হবে এবং সেটি এখন তাদের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।
উল্লেখ্য, শনিবার গভীর রাতে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর রোববার ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন করে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর নির্ভরশীল ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প এই উত্তেজনার মারাত্মক প্রভাব অনুভব করতে পারে। পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের পর্যটন কতটা স্থিতিশীল থাকবে।



