
সামিট গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ আজিজ খানের ব্যাংক হিসাব ও জমি জব্দের পর এবার তার পরিবারের সদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে লুক্সেমবুর্গে থাকা শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ জারি করেছে আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৪ মে) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের চুলচেড়া অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী লুক্সেমবুর্গে আজিজ খান ও তার পরিবারের ৪১ লাখ ১৫ হাজার ৪১২ ইউরো দামের শেয়ার রয়েছে। এ শেয়ারের প্রতিটির দাম ৯১ ইউরো।
দুদক যে আবেদিন করেছে তাতে বলা হয়েছে, ‘ঘুষ, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সামিট গ্রুপ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানে লুক্সেমবার্গে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান এবং তার সহযোগীদের নামে পাওয়া গেছে এ সম্পদ। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের এ সম্পদ অবরুদ্ধ করা আবশ্যক বলে মনে করছে দুদক।
এর আগে ৯ মার্চ সামিট গ্রুপের ১৯১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত। এসব হিসাবে ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকা রয়েছে।
তারপর ১১ মার্চ তাদের ৫৪ কাঠা জমি জব্দের আদেশ আসে, যার বাজার মূল্য এক কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য ৯ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলা হয়েছে।
গত ৫ অগাস্ট অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ভাই আজিজ খান সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় আসেন।
এরপর গত ৭ অক্টোবর সামিটের আজিজ খানসহ পরিবারের ১১ সদস্যের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের সবার ব্যাংক হিসাব ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায়।
চিঠিতে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান, তিন মেয়ে আয়েশা আজিজ খান, আদিবা আজিজ খান ও আজিজা আজিজ খান, চার ভাই ফারুক খান, ফরিদ খান, লতিফ খান ও জাফর উম্মেদ খান এবং ভাইদের ছেলে ফয়সাল করিম খান ও সালমান খানের নাম ও এনআইডি নম্বর দেওয়া হয়। তারা সবাই সামিট গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন।



