সংবিধানের ১৫২(২) বিলোপের প্রস্তাব করেছে সংস্কার কমিশন। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের করা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদ যোগ হয় সংবিধানে। এর মাধ্যমে পঞ্চম তপশিলে ৭ মার্চের ভাষণ, ষষ্ঠ তপশিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সপ্তম তপশিলে মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের অংশ করা হয়।
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে যোগ হওয়ায় এ তিনটি তপশিলকে সংবিধানে না রাখার প্রস্তাব করেছে সংস্কার কমিশন।
গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন। গত ১৫ জানুয়ারি প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া হয়।
সংস্কার কমিশন সংবিধানের ১৫৩টি অনুচ্ছেদের ৬৪টি সংশোধন ও পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। সংবিধানের প্রস্তাবনাও সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। একাত্তরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে প্রস্তাবনার অংশ করার কথা বলা হয়। নতুন চারটি অনুচ্ছেদ সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়।
তবে কীভাবে সংবিধানের সংস্কার হবে, তা বলা নেই সুপারিশ প্রতিবেদনে।
বিদ্যমান নিয়মে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা যায় না। শেখ হাসিনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের বড় অংশকে মৌলিক কাঠামো আখ্যা দিয়ে সংশোধনের অযোগ্য করেছিলেন। তবে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতার মামলায় এ অংশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ফলে দু্ই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কমিশনের করা সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে তা আগামী সংসদ নির্বাচিত হওয়ার আগে সম্ভব নয়।
কিন্তু অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্ব, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই সংস্কার চায়। আদালতের রায়ে গণভোট বিধান ফিরেছে।
কীভাবে সংস্কার হবে– এ প্রশ্নে কমিশন সদস্য ফিরোজ আহমেদ গণমাধ্যমে বলেছেন, এ প্রক্রিয়া ঠিক করবে সরকার, অংশীজন তথা রাজনৈতিক দলগুলো। সংবিধান কীভাবে সংশোধন করা হবে, তা নির্ধারণ কমিশনের কাজ নয় বলে সুপারিশে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে যে কমিশন হতে যাচ্ছে, তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় ঠিক করবে গণভোট, রাজনৈতিক ঐকমত্য নাকি পরবর্তী সংসদে সংবিধান সংশোধন হবে।
সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ ‘ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী’ সংক্রান্ত। একাত্তরের ২৬ মার্চ দেশ স্বাধীন হওয়ার দিন থেকে বাহাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হওয়া পর্যন্ত; অস্থায়ী সংবিধান আদেশ, রাষ্ট্রপতির আদেশ, অস্থায়ী বিধান জারি হয়েছিল, তার সব বৈধতা দেওয়া হয় এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে। চারটি তপশিলে এগুলোকে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি হিসেবে কার্যকর রাখা হয়।



