মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে জেট ফুয়েলের দাম আকাশছোঁয়া, থাই এয়ারওয়েজকে টিকিটের দাম ১০-১৫% বাড়াতে হলো

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় থাইল্যান্ডের জাতীয় বিমান সংস্থা থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল (THAI) গড় টিকিটের মূল্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে। এই বৃদ্ধি শুধুমাত্র বর্ধিত পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চাই ইমসিরি।

তিনি বলেন, সংঘাত শুরুর আগে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৮০ ডলার ছিল, যা এখন ২২০ ডলারে পৌঁছেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যদি যুদ্ধ মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলে, তাহলে দাম আরও বেড়ে ২৪০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে।

চাই ইমসিরি জোর দিয়ে বলেন, “এই মূল্যবৃদ্ধি কোনো লাভের উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রকৃত খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য। জ্বালানির খরচ না মেটাতে পারলে সংস্থাটির টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।”

যদিও থাই এয়ারওয়েজ জুন মাস পর্যন্ত তার জ্বালানির প্রায় ৫০ শতাংশের জন্য হেজিং করে রেখেছে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও হেজিং করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। কারণ দাম আরও বাড়লে এবং পরে কমে গেলে কোম্পানির ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই খরচ বৃদ্ধির প্রভাব যাত্রীদের ওপরও পড়ছে। আসন্ন সংক্রান উৎসবের জন্য অগ্রিম বুকিং গত বছরের তুলনায় কমেছে, বিশেষ করে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াগামী দূরপাল্লার ফ্লাইটগুলোতে। অনেক যাত্রী ভ্রমণের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন এবং পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এয়ারলাইনটি কোনো ফ্লাইট বাতিল করেনি, তবে ডাইনামিক প্রাইসিং চালু করে স্বল্পমূল্যের টিকিটের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে এবং গড় ভাড়া বাড়িয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAT) কাছে উচ্চতর জ্বালানি সারচার্জের অনুমোদন চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনুমোদন পেলে মূল ভাড়া কিছুটা কমিয়ে সামগ্রিক বৃদ্ধির ভারসাম্য রাখা যাবে।

সংকট আরও তীব্র হলে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হবে। অপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগ স্থগিত, সরঞ্জাম সংগ্রহ বিলম্বিত করা ইত্যাদি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে নতুন রুট (যেমন আমস্টারডাম ও চীন) চালু এবং MRO কেন্দ্রে বিনিয়োগের মতো কৌশলগত পরিকল্পনা অপরিবর্তিত থাকবে।

চাই ইমসিরি আশা প্রকাশ করেন যে এই সংকট কোভিড-১৯ এর মতো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে উত্তেজনা কমার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকারি সহায়তার পরিবর্তে আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “সংকটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের সাহায্য করা।”

সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট

Read Previous

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত অবৈধ স্থাপনামুক্ত হচ্ছে: পর্যটকরা কবে পাবেন পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর সৈকত?

Read Next

বিক্রমপুরের প্রাচীন ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী: আরিয়াল বিলের পাশে ‘বিক্রমপুর জাদুঘর’ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular