১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগার ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একসাথে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : গাজীপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কারাগার পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার আলাদা কিছু নয়, বরং পরস্পরের পরিপূরক। তিনি বলেন, কারাগারে বন্দিদের শুধু নিরাপদে আটক রাখা নয়, তাদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ করে সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন।

সোমবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, বন্দিদের মানবাধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, কারাগার একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং এটি দেশের ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিচার ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় কারাগার অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং পুনর্বাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়ভিত্তিক কারা প্রশাসন গড়ে তুলতে কারারক্ষীদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নবীন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা কারারক্ষীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বকে ধারণ করেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের কারারক্ষীরা বৈষম্যহীন ও মানবিক কারা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভিতর থেকে দুর্বল করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করে, তবে সে শুধু আইন লঙ্ঘন করে না, রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কারা সদস্যরা কোনো গোষ্ঠীর নয়, তারা জনগণের করের টাকায় বেতনপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের কর্মচারী; তাই জনকল্যাণই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীরা শারীরিক কসরত ও বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তাদের দক্ষতা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ৬৩তম ব্যাচের প্রশিক্ষণে ড্রিলে প্রথম স্থান অর্জন করেন লিজা খাতুন, পিটিতে প্রথম হন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আনআর্মড কম্ব্যাটে প্রথম হন জুথি পারভীন এবং ফায়ারিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হন মোছা. রায়হানা আক্তার

Read Previous

ভিয়েতনামের পর্যটন শিল্প: ATF 2026-এর জন্য প্রস্তুতি এবং 25 মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

Read Next

বাংলাদেশের পর্যটন খাত: সম্ভাবনা, সংকট ও উন্নয়নের কার্যকর মডেল

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular