যুক্তরাষ্ট্রে বি১/বি২ ভিসায় নতুন বাস্তবতা: বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক

ভিসা বন্ড

ছবি : পর্যটন সংবাদ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন আনছে মার্কিন প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের মতো বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার বিধান কার্যকর হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ১৯ জানুয়ারি একটি জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দূতাবাসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা অর্থাৎ বি১ ও বি২ ভিসার জন্য যেসব বাংলাদেশি নাগরিক নতুন করে অনুমোদন পাবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বন্ডের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে যারা এই তারিখের আগে বৈধভাবে বি১ বা বি২ ভিসা পেয়েছেন, তাদের ওপর নতুন এই শর্ত কার্যকর হবে না। অর্থাৎ আগের ভিসাধারীদের জন্য এটি কোনো অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে না।

নতুন বিধান অনুযায়ী, ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনসুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, পূর্ব ভ্রমণ ইতিহাস এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান শেষে দেশে ফেরার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করবেন। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা আবেদনকারীকে যোগ্য বিবেচনা করলে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের ভিসা বন্ড নির্ধারণ করতে পারেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বন্ডের পরিমাণ আগে থেকে নির্ধারিত নয় এবং এটি পুরোপুরি কনসুলার কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কনসুলার কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া কোনো আবেদনকারী নিজ উদ্যোগে বন্ড জমা দিতে পারবেন না। সাক্ষাৎকারের আগে বা অনুমোদন ছাড়াই অর্থ পরিশোধ করলে সেটি ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে গণ্য হবে না। বরং এমন ক্ষেত্রে জমা দেওয়া অর্থ ফেরতযোগ্য নাও হতে পারে। ফলে আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—কোনো ধরনের গুজব বা অননুমোদিত নির্দেশনা অনুসরণ না করা।
বন্ড জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইট বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার নেবে না। এই নির্দেশনা মূলত প্রতারণা ও ভুয়া লেনদেন থেকে আবেদনকারীদের সুরক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে।

ভিসা বন্ডের উদ্দেশ্য মূলত ভিসার শর্ত মানা নিশ্চিত করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে অথবা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি আবেদনকারী ভ্রমণ না করেন, তাহলে বন্ড হিসেবে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে কেউ যদি অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, সময়মতো দেশত্যাগ না করেন বা ভিসার কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন, সেক্ষেত্রে ওই বন্ড বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে অবৈধ অবস্থান ও ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমানো। বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতীতে ওভারস্টে বা ভিসা ভঙ্গের হার তুলনামূলক বেশি ছিল, তাদের জন্য এই বন্ড ব্যবস্থা একটি নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এটি ভ্রমণেচ্ছু সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিকভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা ব্যবসায়িক কাজে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য এই নতুন নিয়ম ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল করে তুলছে। আবেদনকারীদের উচিত হবে দূতাবাসের নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা, ভিসার শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা এবং কোনো ধরনের অননুমোদিত লেনদেনে জড়ানো থেকে বিরত থাকা। কারণ এখন ভিসা শুধু কাগজপত্রের বিষয় নয়, বরং আর্থিক ও আইনি দায়বদ্ধতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

Read Previous

নডালিয়া সমুদ্র সৈকত: কোলাহলহীন প্রকৃতির কোলে এক নিঃশব্দ ভ্রমণ গন্তব্য

Read Next

হজ ব্যবস্থাপনা সময়মতো সম্পন্নে আজই টিকিট নিশ্চিতের নির্দেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular