
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হজযাত্রীদের এয়ারলাইন টিকিট দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবারের মধ্যেই সব হজযাত্রীর টিকিট বরাদ্দ চূড়ান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করছে, টিকিট ইস্যুতে বিলম্ব হলে সৌদি আরবে আবাসন ভাড়া চুক্তিসহ পুরো হজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ বছর হজ আয়োজনের জন্য একটি নির্ধারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। সেই রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য হোটেল বা বাসা ভাড়ার চুক্তি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। তবে সৌদি নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীদের ফ্লাইট ও টিকিট সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত না থাকলে এসব আবাসন চুক্তি অনুমোদন দেওয়া হয় না। ফলে টিকিট নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সকে পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত শনিবার পাঠানো ওই চিঠিতে হজ এজেন্সিগুলোর জমা দেওয়া টিকিট চাহিদা দ্রুত যাচাই করে তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আজকের মধ্যেই টিকিট বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমোদন নিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের নির্ধারিত হজ পোর্টালে ফ্লাইটের সময়সূচি আপলোড করেছে। তবে সময়সূচি থাকলেও কোন এজেন্সির কতজন যাত্রী কোন ফ্লাইটে যাবেন—এই তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় হজ এজেন্সিগুলো সৌদি আরবে আবাসন ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে পারছে না।
হজ এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আগে থেকেই জানতে চায় তাদের অধীনে থাকা মোট যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী কোন ফ্লাইটে কতটি টিকিট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কারণ সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, একটি হজ এজেন্সির আওতায় যতজন যাত্রী থাকবে, তাদের সবাইকেই একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। ভিন্ন ফ্লাইটে যাত্রী পাঠানোর সুযোগ নেই। এই কারণে টিকিট পরিকল্পনায় সামান্য ভুল হলেও পুরো এজেন্সির হজ ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চলতি বছর হজের আগে মোট ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে তিনটি ধাপে। সব ফ্লাইট একসঙ্গে পরিচালিত হবে না। হজ শুরুর আগেই ধাপে ধাপে যাত্রী পাঠানো হবে। সৌদি বিধি অনুযায়ী, হজের আগে যে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে, তার যেকোনো এক ধাপে একটি হজ এজেন্সির মোট যাত্রীর অন্তত ২০ শতাংশ পাঠাতে হবে। পাশাপাশি প্রথম ও শেষ ধাপে মোট যাত্রীর ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টিকিট ইস্যু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো ধাপেই ৩০ শতাংশের কম বা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না। এই সীমার মধ্যেই টিকিট পরিকল্পনা করতে হয় বলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এয়ারলাইন্সগুলোকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে, যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হজযাত্রীদের টিকিট চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, টিকিট নিশ্চিত হলেই হজ এজেন্সিগুলো সৌদি আরবে মক্কা ও মদিনায় আবাসন ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে পারবে এবং পুরো হজ ব্যবস্থাপনা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, টিকিট বরাদ্দ চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তিনটি এয়ারলাইন্সকে তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে কোনো ধরনের বিলম্ব বা অস্পষ্টতা এ বছর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও মন্ত্রণালয় কঠোর বার্তা



