
ছবি : পর্যটন সংবাদ
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে সোমবার থেকে। সরকার впервые ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের পেশাদার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে শুরু করছে। দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ করা লাখো তরুণের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ চালু করছে দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd। প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারের আগে ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ দুর্বলতা যাচাই এবং অনুপ্রবেশ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড মূলত সেই পেশাজীবীদের জন্য, যারা এতদিন কোনো সরকারি স্বীকৃতি ছাড়াই দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে আসছিলেন। এই পরিচয়পত্র থাকলে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ সুবিধা, ক্রেডিট কার্ড এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনায় প্রবেশ অনেক সহজ হবে। আগে সরকারি পরিচয় না থাকায় এসব সুবিধা পেতে যে জটিলতা ছিল, তা অনেকটাই কমে আসবে।
এছাড়া সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও ফ্রিল্যান্সাররা সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন। দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তি শেখা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কাজ করার সুযোগ বাড়বে। সরকারের লক্ষ্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশি ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের প্রতি আস্থা আরও শক্ত করা।
নতুন প্ল্যাটফর্মটি শুধু নিবন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতার ধরন, কাজের প্রকৃতি এবং বাজারের গতিপ্রকৃতি সংরক্ষণ করে একটি জাতীয় ডাটাবেস তৈরি করা হবে। এই তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ এবং খাতভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
সরকারের দৃষ্টিতে, এই উদ্যোগ যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ শক্ত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সংযোগ বাড়লে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দূরবর্তী কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা বৈশ্বিক গিগ অর্থনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এখন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে আরও বিস্তৃত সুযোগে প্রবেশ করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে স্ব-কর্মসংস্থান পেশাজীবীদের জন্য দেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।



