
ছবি : পর্যটন সংবাদ
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের করাচি–ঢাকা রুটের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে এই রুটে সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ২০১২ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যাত্রীবাহী বিমানের সরাসরি যাতায়াত শুরু হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, করাচি–ঢাকা রুট পুনরায় চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের জন্য যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর হবে। ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী যাত্রীদের জন্য এই রুট বিশেষভাবে উপকারী হবে বলে তিনি মনে করেন।
এতদিন ঢাকা থেকে পাকিস্তান যেতে যাত্রীদের দুবাই কিংবা দোহার মতো মধ্যবর্তী ট্রানজিট পয়েন্ট ব্যবহার করতে হতো। এতে যাত্রার সময় যেমন বেড়ে যেত, তেমনি খরচ ও ঝামেলাও ছিল বেশি। সরাসরি ফ্লাইট চালুর খবরে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় যাত্রীরা দ্রুত টিকিট কিনে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবেই এই ফ্লাইট চালু হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বেড়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে যাত্রী পরিবহন খাতেও।
এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে করাচি ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে কার্গো শিপিং পুনরায় চালু হয়। পাশাপাশি জানুয়ারিতে সরাসরি ফ্লাইট শুরুর বিষয়টি পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ঢাকায় এক বৈঠকে নিশ্চিত করেছিলেন।
অতীতে রাজনৈতিক কারণে দুই দেশের সম্পর্কে নানা টানাপোড়েন থাকলেও সাম্প্রতিক সফর ও বৈঠকগুলো সম্পর্ক উন্নয়নের আভাস দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই সরাসরি আকাশপথ ভবিষ্যতে বাণিজ্য, পর্যটন ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করবে।
সব মিলিয়ে, ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া শুধু একটি নতুন রুট নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর দুই দেশের সম্পর্কের গতি ফেরানোর একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।



