
ছবি : পর্যটন সংবাদ
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলেই অনেকের মনে প্রথম প্রশ্ন আসে—ভ্রমণ পাস লাগবে কি না। এবার সেই দুশ্চিন্তা একেবারেই নেই। অনুমোদিত জাহাজ অপারেটরদের কাছ থেকে টিকিট কিনলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় প্রয়োজনীয় QR-কোডেড ভ্রমণ পাস। আলাদা করে কোথাও আবেদন বা অতিরিক্ত কোনো পাস সংগ্রহের দরকার নেই।
জাহাজ অপারেটরদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, টিকিট কেনার পর সিস্টেম নিজেই QR কোড তৈরি করে দেয়। তাই যাত্রার আগে পর্যটকদের শুধু প্রিন্টেড টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। QR কোড ছাড়া কোনো টিকিট বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।
অনুমোদিত ছয়টি জাহাজ
এই মৌসুমে যাতায়াতের দায়িত্ব পেয়েছে ছয়টি জাহাজ—
- এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস
- এমভি বার আউলিয়া
- এমভি বে ক্রুজ
- এমভি কাজল
- কেয়ারি সিন্দবাদ
- কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন
এই অনুমোদিত নৌযানগুলোর বাইরে অন্য কোনো জাহাজ যাত্রী নিতে পারবে না।
সময়সূচি ও যাত্রার নিয়ম
এবার টেকনাফ রুট পুরো মৌসুমে বন্ধ। সব যাত্রাই কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে পরিচালিত হবে।
- প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ ছেড়ে যাবে কক্সবাজার থেকে।
- পরদিন বিকেল ৩টায় ফিরতি যাত্রা শুরু হবে সেন্ট মার্টিন থেকে।
এই নির্দিষ্ট সময়সূচি পুরো মৌসুম জুড়ে বজায় থাকবে।
প্রকৃতি বাঁচাতে ১২টি কঠোর নির্দেশনা
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সরকার এবার কঠোর অবস্থানে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১২টি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
নিষিদ্ধ—
- অগ্নিকুণ্ড
- উচ্চ শব্দ বা সাউন্ড সিস্টেম
- বারবিকিউ আয়োজন
- মোটরসাইকেল ব্যবহার
- সব ধরনের সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক (পলিথিন, প্লাস্টিক চামচ, চিপসের প্যাকেট, ৫০০ মি.লি. বা ১ লিটার বোতলসহ)
এসব নিয়ম মানা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। লঙ্ঘন করলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
দর্শনার্থীর সীমা ও রাত্রিযাপন
দ্বীপে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০০ দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই সীমা কঠোরভাবে কার্যকর। বছরের মাত্র দুই মাস—ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যায়। বাকি সময় শুধু দিবসভ্রমণের অনুমতি থাকে।
দীর্ঘ বিরতির পর সেন্ট মার্টিনে নতুন মৌসুম
প্রায় নয় মাস বন্ধ থাকার পর নভেম্বর থেকে আবার পর্যটকদের জন্য খুলেছে সেন্ট মার্টিন। তবে রাত্রিযাপন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ডিসেম্বর থেকে। পর্যটক চাপ আর পরিবেশগত ক্ষতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে পুরো দ্বীপ পরিচালিত হচ্ছে।
এবারের মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ আরও সহজ আর পরিবেশবান্ধব। আলাদা পাসের ঝামেলা নেই, টিকিটেই মিলছে QR-কোডেড ভ্রমণ পাস। শুধু নিয়মগুলো মানলেই নিশ্চিন্তে উপভোগ করা যাবে দেশের সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপের সৌন্দর্য।



