
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের বেসামরিক উড্ডয়ন খাতকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করার লক্ষ্যে সিভিল এভিয়েশন একাডেমি রাজধানীতে ‘বিমান চলাচলে নিরাপত্তা সংস্কৃতি’ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মশালার আয়োজন করেছে। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই কর্মশালা নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ তৈরি করার দিকে জোর দেয়।
কর্মসূচির শুরুতে একাডেমির পরিচালক ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা–আইসিএও অনুমোদিত প্রশিক্ষক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে উঠে আসে—বিমান চলাচলে নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিগত নিয়ম নয়; বরং এটি প্রতিটি কর্মীর চিন্তা, আচরণ এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি বলেন, যেকোনো দেশে আধুনিক বিমানবন্দর পরিচালনায় নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা না হলে উন্নত অবকাঠামো বা প্রযুক্তিও যথেষ্ট নয়।
তার বিশ্লেষণে তিনি তিনটি বিষয়কে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন: প্রথমত, নিরাপত্তা নীতিমালা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ঘাটতি; দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান পদ্ধতিগুলো সঠিকভাবে অনুসরণে অনীহা বা অসচেতনতা; তৃতীয়ত, বহুস্তরিক সমন্বয়ের অভাব। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি একটি স্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
কর্মশালায় বক্তা হিসেবে যোগ দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হলে প্রতিটি বিমানবন্দরকে নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। তিনি বিমানবন্দর নিরাপত্তা বাহিনী, যাত্রী ব্যবস্থাপনা, ব্যাগেজ স্ক্রিনিং এবং এয়ারসাইড কার্যক্রমে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তার মতে, “নিরাপত্তা শুধু দায়িত্ব নয়—এটি একটি态 attitude। এই মানসিকতা তৈরি করতে প্রশিক্ষণ সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
কর্মশালায় বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকেরাও যুক্ত ছিলেন। তারা বিমানবন্দরের বাস্তব পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরে অংশগ্রহণকারীদের জানিয়ে দেন, কোন ভুল আচরণ বা ছোট একটি অসতর্কতা কীভাবে বৃহৎ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার দক্ষতা প্রতিটি কর্মীর জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন বিমানবন্দর—ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজারসহ—বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব দেন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আপডেটেড নিরাপত্তা নির্দেশিকা তাদের কাজে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
দিনব্যাপী আলোচনার শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সিভিল এভিয়েশন একাডেমি জানায়, প্রতি বছর নিয়মিতভাবে তারা এই ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য হলো—দেশের বিমানবন্দরগুলোতে কর্মরত প্রতিটি কর্মকর্তার মধ্যে দায়িত্ববোধ, সতর্কতা এবং পেশাদারিত্ব আরও জোরদার করা, যাতে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাংলাদেশের বিমান চলাচল আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
দেশব্যাপী নিরাপত্তা সচেতনতা তৈরি ও সক্ষমতা উন্নয়নে এই ধারাবাহিক উদ্যোগকে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



