যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের ধাক্কা: ফ্লাইট বাতিল ও দেরিতে যাত্রায় চরম ভোগান্তি

ছবি: এএফপি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের চলমান শাটডাউনের প্রভাব এবার তীব্রভাবে পড়েছে দেশটির বিমান চলাচলে। গতকাল শনিবার একদিনেই এক হাজার চার শতাধিক ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ছয় হাজার ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়েছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন বিমানবন্দরগুলোতে।

বিমান চলাচল বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবারও সাত হাজারের বেশি ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছিল। তবে শনিবারের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। অনেক বিমানবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে, বিশেষ করে নিউইয়ার্ক, শিকাগো ও শার্লটের মতো ব্যস্ত টার্মিনালগুলোতে।

শাটডাউন ও বিমান চলাচল সংকট

বাজেট পাস নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের শাটডাউন চলছে। এর ফলে বেতন বন্ধ হয়ে গেছে অনেক সরকারি কর্মীর, যার মধ্যে রয়েছেন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকরাও।

ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ইতিমধ্যে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণকর্মীদের অনুপস্থিতি ও ক্লান্তির কারণে তারা বাধ্য হয়ে দেশের ৪০টি ব্যস্ত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, শাটডাউন চলতে থাকলে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এফএএর একজন মুখপাত্র বলেন, “এখনও অনেক নিয়ন্ত্রক বাধ্য হয়ে কাজ করছেন, কিন্তু বেতন বন্ধ থাকায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এটি সরাসরি নিরাপত্তা ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।”

বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষোভ ও আহ্বান

দেশের প্রধান বিমান সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে গিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর। বর্তমান পরিস্থিতি শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, জনগণের জন্যও ক্ষতিকর।”

অন্য সংস্থাগুলোও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, থ্যাংকসগিভিং ছুটির মৌসুমে এই সংকট অব্যাহত থাকলে পুরো ভ্রমণ শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিমানবন্দরগুলোর বাস্তব চিত্র

নিউ জার্সির নিউইয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার ছিল বিশৃঙ্খলার চিত্র। যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন ফ্লাইটের অপেক্ষায়। বিকেলের দিকে অনেক ফ্লাইট চার ঘণ্টারও বেশি দেরিতে পৌঁছেছে, আর গড়ে দেড় ঘণ্টা দেরিতে উড়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে শার্লট/ডগলাস আন্তর্জাতিক, শিকাগোর ও’হেয়ার, জন এফ. কেনেডি, এবং হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। সেখানে বিকেলে প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে ফ্লাইট ছেড়েছে বলে জানিয়েছে ফ্লাইটঅ্যাওয়ার।

যাত্রী জেনিফার রাইট বলেন, “আমি আটলান্টা থেকে নিউইয়ার্ক যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৯টায়। ফ্লাইট ছাড়ল বিকেল ২টায়। শিশুসহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।”

সম্ভাব্য আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিমান চলাচল ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি যেন জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক থাকে। কিন্তু যদি আরও কর্মী অনুপস্থিত থাকে, আমাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, শাটডাউন অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু বিমান চলাচলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের অর্থনীতিতে প্রতিদিন কয়েক শ’ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

থ্যাংকসগিভিংয়ের ভ্রমণ মৌসুম যুক্তরাষ্ট্রে বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময়। লাখ লাখ মানুষ এই সময় পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে ভ্রমণ করেন। কিন্তু চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে, আসন্ন দিনগুলোতে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়বে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

শাটডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর ততদিন যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিই যেন নতুন বাস্তবতা।

Read Previous

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোনাস সাইড ট্রিপ প্রোগ্রাম এখন আরও বড়, যুক্ত হয়েছে নতুন দেশীয় ও আঞ্চলিক গন্তব্য

Read Next

ইংল্যান্ডে শতাব্দীর ভয়াবহ খরার আশঙ্কা, পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরি প্রস্তুতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular