মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোনাস সাইড ট্রিপ প্রোগ্রাম এখন আরও বড়, যুক্ত হয়েছে নতুন দেশীয় ও আঞ্চলিক গন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় অফার নিয়ে এসেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স। জনপ্রিয় বোনাস সাইড ট্রিপ (BST) প্রোগ্রামটির আওতায় এবার যুক্ত হয়েছে নতুন অভ্যন্তরীণ শহর কুচিং, পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে সংযুক্ত হয়েছে থাইল্যান্ডের ক্রাবি, কম্বোডিয়ার সিম রিপ, এবং ফিলিপাইনের সেবু। এ উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার পর্যটনকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের এক সফরে একাধিক গন্তব্য উপভোগের সুযোগ করে দিচ্ছে এয়ারলাইন্সটি।

মালয়েশিয়ার ভেতরে নতুন ভ্রমণ সম্ভাবনা

বিএসটি প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো কুয়ালালামপুর হয়ে যাতায়াত করা যাত্রীদের জন্য বাড়তি এক গন্তব্য অন্বেষণের সুযোগ করে দেওয়া—তাও আবার শূন্য বেস ভাড়ায়, শুধুমাত্র প্রযোজ্য কর পরিশোধ করে। নতুন সংযোজনের ফলে এখন ভ্রমণকারীরা মোট আটটি দেশীয় গন্তব্য বেছে নিতে পারবেন—কুয়ালাতেরেংগানু, ল্যাংকাউই, পেনাং, জোহর বাহরু, কোটা কিনাবালু, আলোর সেটার, কুয়ান্তান এবং সর্বশেষ কুচিং।

প্রত্যেকটি শহর মালয়েশিয়ার একেকটি দিক তুলে ধরে—কোথাও রয়েছে সাগর, কোথাও পাহাড়, কোথাও ঐতিহাসিক নিদর্শন। নতুন যুক্ত কুচিংকে কেন্দ্র করে সারাওয়াক রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং জীববৈচিত্র্য তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। সারাওয়াক ট্যুরিজম বোর্ডের (STB) সহযোগিতায় এই উদ্যোগ মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় অংশকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক গন্তব্যে নতুন সংযোগ

শুধু দেশীয় নয়, এবার বিএসটি প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক গন্তব্য—ক্রাবি, সিম রিপ এবং সেবু। এগুলো পরিচালনা করবে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের সহযোগী সংস্থা ফায়ারফ্লাই। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সীমিত সময়ের এই অফারটি যাত্রীদের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও নমনীয় ভ্রমণ বিকল্প তৈরি করছে।

এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপ (MAG) তাদের আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ও ফায়ারফ্লাইয়ের মধ্যে সমন্বিত সেবা কাঠামো যাত্রীদের জন্য আরও মসৃণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।

পর্যটন প্রচারে কৌশলগত পদক্ষেপ

MAG-এর প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ডেরসেনিশ আরেসান্দিরান বলেন, “বোনাস সাইড ট্রিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা চাই আন্তর্জাতিক যাত্রীরা এক সফরে মালয়েশিয়ার বৈচিত্র্যময় রূপ উপভোগ করুক। কুচিংয়ের অন্তর্ভুক্তি আমাদের সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা। পাশাপাশি সারাওয়াক ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা স্থানীয় পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।”

তিনি আরও জানান, নতুন আঞ্চলিক গন্তব্যগুলো শুধু ভ্রমণপথের বৈচিত্র্যই নয়, বরং ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬ (VM2026) ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য—দেশের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক আগমন বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।

যাত্রায় আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাদ

নতুন প্রোগ্রামের পাশাপাশি মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স তাদের সেবার মানেও আনছে উন্নয়ন। যাত্রীরা এখন ফ্লাইটের আগে প্রিয় খাবার প্রি-বুক করতে পারবেন। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট ফ্লাইটে পরিবেশন করা হবে ভিয়েতনামী গা খো তাউ—সুগন্ধি ক্যারামেলাইজড মুরগি, জুঁই ভাত এবং তাজা সবজির অনন্য সংমিশ্রণ।

এয়ারলাইন্সটির পুরস্কারপ্রাপ্ত ইকোনমি ক্লাসে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও প্রশস্ত আসন, উন্নত বিনোদন ব্যবস্থা এবং দ্রুত চেক-ইন সুবিধা উপভোগ করবেন।

লয়্যালটি প্রোগ্রামে বাড়তি সুবিধা

এনরিচ সদস্যদের জন্য রয়েছে ৫% ভাড়ায় ছাড়, আর নতুন সদস্যরা বিনামূল্যে নিবন্ধন করে সঙ্গে সঙ্গেই পয়েন্ট অর্জন শুরু করতে পারবেন। এসব পয়েন্ট পরবর্তীতে টিকিট কেনা বা সেবা আপগ্রেডে ব্যবহার করা যাবে।

যাত্রীরা যদি মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি বুকিং করেন, তাহলে তারা অতিরিক্ত ছাড়, শিশুদের জন্য বিশেষ রেয়াত, নমনীয় বুকিং অপশনসহ এক্সক্লুসিভ অফার পাবেন।

পর্যটনের নতুন দিগন্ত

বিএসটি প্রোগ্রামটির সম্প্রসারণ মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্পে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। একদিকে দেশীয় পর্যটন বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক যাত্রীরা মালয়েশিয়ার বৈচিত্র্যকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারবে।

এয়ারলাইন্সটি আশা করছে, এই উদ্যোগ বিদেশি ভ্রমণকারীদের শুধু কুয়ালালামপুর নয়, বরং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের সংস্কৃতি, খাদ্য, প্রকৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে উৎসাহিত করবে। সারাওয়াক ট্যুরিজম বোর্ডও বিশ্বাস করছে, এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সারাওয়াক আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে “একটি আবশ্যিক গন্তব্য” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

পরিশেষে, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এই কৌশলগত পদক্ষেপ কেবল তাদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ নয়, বরং দেশের পর্যটন অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার দিকেও বড় পদক্ষেপ। এক সফরে একাধিক অভিজ্ঞতা—এই ধারণাই হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতের মালয়েশিয়া ভ্রমণের নতুন মুখ।

বিস্তারিত জানতে ও বুকিংয়ের জন্য ভিজিট করুন: www.malaysiaairlines.com

Read Previous

মধ্য এশিয়ায় বোয়িংয়ের বড় সাফল্য: উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান মিলিয়ে ৭ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার

Read Next

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের ধাক্কা: ফ্লাইট বাতিল ও দেরিতে যাত্রায় চরম ভোগান্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular