১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন আকাশে বাড়ছে উদ্বেগ: বেতনহীন নিয়ন্ত্রকদের উপর নির্ভর করছে কোটি যাত্রীর নিরাপত্তা

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল খাতে অভূতপূর্ব অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সরকারি বাজেট জটিলতায় দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) বিমান নিয়ন্ত্রকরা টানা ৩৮ দিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে, যা যাত্রীদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ওয়াশিংটনের রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যাত্রী বেন সসেদা বলেন, “প্রতিবার আমি বিমানে উঠি, আমার জীবনটা এই নিয়ন্ত্রকদের হাতে তুলে দিই। এখন তারা নিজেরাই জানে না পরিবারের খাবার কীভাবে জোগাড় করবে, অথচ তাদেরই ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে।”

এই সংকট কেবল যাত্রীদের নয়, নিয়ন্ত্রকদের মানসিক অবস্থাকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেকে টানা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন, কেউ কেউ আবার দ্বিতীয় চাকরিও নিতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় অনেক নিয়ন্ত্রক মানসিক চাপ ও ক্লান্তিতে ভুগছেন, যা সরাসরি বিমান নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইতোমধ্যে ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৪ শতাংশ ফ্লাইট কমানো হলেও আগামী সপ্তাহে তা ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যদি অচলাবস্থা চলতেই থাকে, তবে ফ্লাইট সংখ্যা ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিক ড্যানিয়েলস বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক দাবার গুটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিজেরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে পারি না। আমাদের কাজ দেশের আকাশ নিরাপদ রাখা, কিন্তু বেতন ছাড়া সেটা করা এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। কংগ্রেসের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, নইলে আকাশপথে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।”

অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এনডেনিসারিয়া মিকিনস নামের এক যাত্রী বলেন, “যারা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তাদেরই যদি আর্থিক অনিশ্চয়তায় ফেলা হয়, তাহলে আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করব? আমাদের বিশ্বাস আছে তাদের দক্ষতার প্রতি, কিন্তু মানুষ তো রোবট নয়।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন সচিব শন ডাফি সতর্ক করে বলেছেন, কংগ্রেস যদি দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছায়, তাহলে বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছি যেখানে আকাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, মানুষের জীবনের প্রশ্ন।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকারি অচলাবস্থা, যা সরাসরি দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী দেরি, বাতিল ও নিরাপত্তা আশঙ্কার মধ্যে পড়ে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে সকলের দৃষ্টি এখন কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের দিকে। সরকারি কাজ পুনরায় চালু না হলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে সংকট আরও গভীর হবে—এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

Read Previous

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিজ জেলা পাবনায় আগমন: দুই দিনের সরকারি সফরে ব্যস্ত সময়সূচি

Read Next

ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনায় উদ্বেগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular