
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌপথে ভ্রমণের সুযোগ পেল এক পরিবারের তিন সদস্য। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এ যাত্রা ছিল অনন্য অভিজ্ঞতায় ভরপুর।
শুরুটা হয়েছিল গত মাসে, রাজধানীর পূর্বাচলের শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে। ৭৫ যাত্রী ধারণক্ষমতার দোতলা জাহাজে যাত্রা শুরু হয় বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। জাহাজে ২৮টি কেবিন, প্রতিটিতে সংযুক্ত টয়লেট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। দোতলায় ডাইনিং হল, আর ওপরে ছাদজুড়ে বসার ব্যবস্থা, যা ভ্রমণকারীদের কাছে ছিল সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।
প্রথম দিন সন্ধ্যায় চাওমিন আর চা খেতে খেতেই জাহাজ ছেড়ে দিল ঘাট। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ছাদে বসে গান, গল্প আর আকাশের তারার সৌন্দর্যে ডুবে থাকলেন যাত্রীরা। শীতলক্ষ্যা নদী হয়ে ধলেশ্বরী পেরিয়ে রাতভর চলল ভ্রমণ।
দ্বিতীয় দিনে ঘোড়াউত্রা নদী ধরে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে পৌঁছে যাত্রীরা মিঠামইন ও ইটনার পথে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করেন। চারদিকে হাওরের জলরাশি, মাঝে মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো গাছপালা আর ফসলের মাঠ—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবেশ তৈরি হয়।
পরদিন ভোরে পৌঁছানো হলো টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রবেশমুখে। মাস্টারের সতর্কতায় ছাদে না উঠে সবাই মাস্টারব্রিজ থেকে দৃশ্য দেখলেন। বৌলাই নদ হয়ে পৌঁছালেন বিখ্যাত ওয়াচ টাওয়ার এলাকায়। চারপাশে হিজল–করচের বন, বুকসমান পানি আর দূরে মেঘালয়ের পাহাড়ের দৃশ্য যেন এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য। ভ্রমণকারীরা সেখানেই পানিতে নেমে গোসলের আনন্দ নিলেন।
তাহিরপুরের ডাম্পের বাজারে নেমে ঘুরে দেখা হলো সীমান্তঘেঁষা শাহিদ সিরাজ লেক, বারেকের টিলা আর শিমুলবাগান। রাতে জাহাজে ছিল স্থানীয় শিল্পীগোষ্ঠী ‘গানপুর’-এর লোকগানের আয়োজন। শাহ আবদুল করিম, হাসন রাজা, লালন আর রাধারমণের গান ভ্রমণকে আরও রঙিন করে তুলল।
শেষ দিনে ভোরে নোঙর তুলল জাহাজ, শুরু হলো ফিরতি যাত্রা। ভ্রমণ শেষে যাত্রীরা বললেন—টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু প্রকৃতির নয়, সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতারও এক অনন্য ভান্ডার।
হাওরের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখতে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য এই ধরনের নৌভ্রমণ হতে পারে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।



