
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ: বিস্তীর্ণ সাগর, নীল জলরাশি আর ঝাউবনের সবুজে ঘেরা পারকি সৈকত এখন দখলবাজদের কবজায়। কর্ণফুলী টানেল চালুর পর পর্যটক বাড়তে শুরু করলে সৈকতের আশপাশের সরকারি জমিতে গড়ে ওঠে কটেজ, রেস্তোরাঁ, বাজার ও নানা ধরনের ব্যবসা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোয়ারা উপজেলার এই সৈকতের ১৮২ একর সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন ২৭৬ জন। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনকালে এ দখল ছিল দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের হাতে। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরাও যুক্ত হয়েছেন এ দখলযুদ্ধে।
বেড়িবাঁধের ওপরই স্থাপনা
সৈকতের ১৩ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধ ও খাসজমির ওপর ১৮২টি পাকা এবং ৯৪টি কাঁচা স্থাপনা। কোথাও দোকান, কোথাও কটেজ, আবার কোথাও বাজার। এমনকি সরকারি বেড়িবাঁধের ব্লকের ওপরও তৈরি হয়েছে ইট-পাথরের স্থাপনা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ূম শাহ, কৃষক লীগ নেতা নুরুল আনোয়ারসহ অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতা আব্দুল মইয়ুম চৌধুরী, ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা আকবর খান, হেফাজতের কর্মী সোহেল সালেহসহ আরও অনেকে সাম্প্রতিক সময়ে দখল নিয়েছেন।
বাজার ও ব্যবসার রাজত্ব
সৈকতের রাঙ্গাদিয়া, দুধকুমড়া ও পারকি বাজারে মোট ১৯২টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ১১৮টি দোকান মাসে সাত থেকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। শুধু ভাড়া থেকেই বছরে আয় হচ্ছে এক কোটির বেশি। বাকি দোকানগুলোতে দখলদাররা নিজেরাই ব্যবসা করছেন।
এ ছাড়া ২১টি ঘেরে মাছ চাষ করে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সৈকতের বিভিন্ন পার্ক, কটেজ ও রেস্তোরাঁ থেকে বছরে আরও কোটি কোটি টাকা আয় করছে দখলদাররা। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৩২ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চলছে সরকারি জমিতে।
উচ্ছেদে বাধা
পাউবো একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে কার্যক্রম থেমে গেছে। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
পরিবেশের ক্ষতি
পরিবেশবিদদের অভিযোগ, অবৈধ স্থাপনার কারণে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাণবৈচিত্র্য। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একসময় আওয়ামী লীগের নেতারা এসব ব্যবসা চালাতেন, এখন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও যোগ দিয়েছেন।
কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ হাতছাড়া
সরকারি হিসেবে শুধু সৈকত এলাকায় দখলকৃত জমির বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। অথচ এ সম্পদ দখলদারদের হাতে চলে গিয়ে রাষ্ট্র বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।



