
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: শিক্ষার পাশাপাশি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্যও হংকং সবসময়ই এক স্বপ্নের নাম। সমুদ্রবন্দর শহরের ঝলমলে আলো, আধুনিক স্থাপত্য, প্রাচীন সংস্কৃতি আর পাহাড়ঘেরা প্রকৃতির মেলবন্ধন একে করেছে পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য। এবার সেই হংকং আবারও খুলে দিয়েছে নতুন দিগন্ত—৪০০টি ফুল ফান্ডেড পিএইচডি ফেলোশিপের মাধ্যমে।
শিক্ষা আর ভ্রমণের মিলন
এই ফেলোশিপের আওতায় যারা নির্বাচিত হবেন, তারা শুধু উচ্চমানের গবেষণা ও একাডেমিক সুযোগই পাবেন না, হংকংয়ের বহুমুখী সংস্কৃতি ও পর্যটনেরও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। দিনে লেকচার বা ল্যাবে কাজ, আর ছুটির দিনে ভিক্টোরিয়া হারবারে নৌভ্রমণ কিংবা হংকং ডিজনিল্যান্ডে সময় কাটানো—এমন অভিজ্ঞতা অন্য কোথাও পাওয়া মুশকিল।
কী কী সুবিধা
- প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮০০ হংকং ডলার ভাতা
- সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পূর্ণ অর্থায়ন
- আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও গবেষণায় অংশ নিতে অতিরিক্ত ভ্রমণ ভাতা
- তিন বছরের বেশি গবেষণা স্থায়ী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাড়তি সহায়তা
কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ
হংকংয়ের আটটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এই ফেলোশিপের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে আছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চায়নিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি নামী প্রতিষ্ঠান।
যোগ্যতা
বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার সম্ভাবনা, নেতৃত্বগুণ ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
- প্রথম ধাপে হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিমের অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হবে।
- এরপর রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে সর্বোচ্চ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়/প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে।
- শেষ সময়সীমা: ১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ১১:৫৯ (হংকং সময়)।
হংকং: শিক্ষা ও ভ্রমণের যৌথ কেন্দ্র
পিএইচডি করার পাশাপাশি হংকং ঘুরে দেখার সুযোগও কিন্তু কম নয়। ভিক্টোরিয়া পিকের শীতল বাতাস, লান্তাউ দ্বীপের সবুজ প্রকৃতি, মন্দির স্ট্রিট নাইট মার্কেটের জমজমাট পরিবেশ কিংবা ওশেন পার্কের থ্রিলিং রাইড—সব মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে এই ফেলোশিপ যাত্রা।
শিক্ষা আর পর্যটন—দুই দিকেই হংকং সমান আকর্ষণীয়। তাই যে তরুণরা গবেষণার পাশাপাশি বিশ্বকে কাছ থেকে দেখতে চান, তাদের জন্য এ ফেলোশিপ নিঃসন্দেহে দারুণ এক সুযোগ।



