
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৩৭ কোটি টাকা অনিরীক্ষিত মুনাফার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরে এটাই জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির সর্বোচ্চ মুনাফা। সোমবার (১৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কার্যকর কৌশল গ্রহণ, বহর আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। গত অর্থবছরে বিমানের আয় দাঁড়িয়েছে ১১,৬৩১ কোটি টাকায়। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেই টিকিট বিক্রির সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে বিমান।
যাত্রী পরিবহনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান পরিবহন করেছে ৩.৪ মিলিয়ন যাত্রী এবং ৪৩ হাজার ৯১৮ টন কার্গো। কেবিন ফ্যাক্টর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, ইন-ফ্লাইট সেবার মানোন্নয়ন ও বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বহর ও সক্ষমতা
বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৯টি নিজস্ব মালিকানাধীন। এর মধ্যে আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারও আছে। নিজেদের রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিমান দেশেই বড় ধরনের চেক ও মেইনটেন্যান্স সম্পন্ন করতে পারে, যা খরচ কমানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
বকেয়া জটিলতা
তবে এক ভিন্ন দিকও সামনে এসেছে। জেট ফুয়েল সরবরাহকারী পদ্মা অয়েল জানিয়েছে, বিমানের কাছে তাদের প্রায় ২১০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই বকেয়া পরিশোধ না করেই বিমান মুনাফার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিমান এ বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
দীর্ঘ যাত্রার অর্জন
১৯৭২ সালে মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা আয়ে যাত্রা শুরু করে বিমান। তখনকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সীমিত অবকাঠামো পেরিয়ে আজকের দিনে এসে বিমান হয়ে উঠেছে একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স। গত ৫৫ বছরে বিমান মোট ২৬টি বছরে লাভ করেছে। ২০০৭ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের পর থেকে বিমানের মোট পুঞ্জীভূত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ কোটি টাকায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন ব্যবস্থাপনার দক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে এই রেকর্ড মুনাফার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



