
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়া চীনা পর্যটকদের জন্য চালু করতে যাচ্ছে সীমিত সময়ের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে এটি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরকারের লক্ষ্য, করোনা-পরবর্তী পর্যটন খাত পুনরুদ্ধার এবং আসন্ন এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলন ঘিরে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়ানো।
দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, “বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে। এপেক সম্মেলনের আগে পর্যটন খাতকে আরও সক্রিয় করতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
চীনের সাপ্তাহিক ছুটি “গোল্ডেন উইক” অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়ায়, এই সময়টিকে লক্ষ্য করেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। আশাবাদ, এ সময় চীনা পর্যটকদের আগমনে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
এ পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন সরকার ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের কৌশল। উল্লেখযোগ্য যে, গত বছর নভেম্বরে চীন কোরীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা অব্যাহতির ঘোষণা দেয়, যার প্রতিক্রিয়ায় চলতি বছরের মার্চে দক্ষিণ কোরিয়া ভিসামুক্ত নীতির ইঙ্গিত দেয়। এবার তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। পর্যটন ও খুচরা খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে লাফ দেখা যায়:
- হুন্দাই ডিপার্টমেন্ট স্টোর: +৭.১%
- হোটেল শিল্লা: +৪.৮%
- ক্যাসিনো অপারেটর প্যারাডাইস: +২.৯%
- হানকুক কসমেটিকস: +৯.৯%
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনা পর্যটকদের উচ্চ ব্যয় প্রবণতা এই খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পর্যটন চাপ সামলাতে পদক্ষেপ
বাড়তে থাকা পর্যটকের চাপ সামাল দিতে সিওলের ঐতিহাসিক বুকচন হানক ভিলেজে রাতের বেলায় পর্যটন সীমিত করার চিন্তা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এতে ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ ও সংস্কৃতি রক্ষা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এপেক সম্মেলন ঘিরে বাড়তি গুরুত্ব
চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ঐতিহাসিক গেয়ংজু শহরে অনুষ্ঠিত হবে এপেক সম্মেলন। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা সম্মেলনের কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।



