
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে আজ এক ভিন্নমাত্রার আলোচনার জন্ম দিল জামায়াতে ইসলামী। দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জুলাই সনদের খসড়াকে ‘অসম্পূর্ণ’ ও কিছু অংশকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন।
সংলাপের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “এটি একটি খসড়া মাত্র বলা হলেও, এতে কিছু প্রস্তাব এমন রয়েছে যা বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”
জামায়াত নেতার মতে, নির্বাচিত সরকারকে দুই বছরের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া একটি অনিশ্চয়তাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব। তিনি জানান, তাঁদের দল একটি বিকল্প খসড়া সনদ তৈরি করছে, যা শিগগিরই কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, “আমরা যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাচ্ছি, তা বাস্তবায়নের জন্য আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। আমরা দুটি পথের কথা বলেছি—একটি হচ্ছে অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনি কাঠামো তৈরি করে পরে তা পার্লামেন্টে অনুমোদন নেওয়া, অন্যটি গণভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জন।”
সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াত প্রস্তাব করেছে, একটি পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠিত হোক, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিরাও থাকবেন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে।
বিএনপি ঐ কাঠামোর একটি পর্যায়ে সংসদীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব দিলেও জামায়াতসহ অধিকাংশ দল মনে করছে, সিদ্ধান্ত সংসদে নিলে তা রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে যেতে পারে। বরং সংলাপেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তাহের।
আজকের আলোচনায় জামায়াত ছাড়াও অংশ নেয় বিএনপি, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলনসহ আরও প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মনির হায়দার।



