
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত অবশেষে শান্তির পথে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় উভয় দেশ অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই খবর পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
গত তিন দিন ধরে সীমান্তে থাই ও কম্বোডীয় বাহিনীর মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব অস্থিরতার কারণে সীমান্তবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের আনাগোনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল একাধিক দেশ।
তবে সম্প্রতি স্কটল্যান্ড সফররত ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টে জানান, তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষকে সংঘাত বন্ধে চাপ দিয়েছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তিনি এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করবেন।
ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে থাই প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম জানিয়েছেন, “থাইল্যান্ড নীতিগতভাবে অস্ত্রবিরতিতে রাজি, তবে কম্বোডিয়ার দিক থেকেও আন্তরিকতা প্রত্যাশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব দ্বিপাক্ষিক সংলাপ শুরু করতে চাই, যাতে সংঘাত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং পর্যটনসহ অন্যান্য খাতে স্থিতিশীলতা ফেরে।”
এই পরিস্থিতিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার জনপ্রিয় সীমান্তসংলগ্ন পর্যটন শহরগুলোতে যেমন– আরণ্যপ্রদেশ, চ্যান্থাবুরি, ও সিয়াম রিপ—যেখানে প্রতিনিয়ত হাজারো পর্যটক ভিড় করতেন, সেখানে নিরাপত্তা ফেরার আশা করছেন হোটেল ও ট্রাভেল কোম্পানিগুলো।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও উভয় দেশের প্রতি অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের উপমুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উভয় দেশকে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তবে অস্ত্রবিরতি আলোচনার সময় ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি। হোয়াইট হাউজ বা দুই দেশের দূতাবাস থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার পর্যটনখাতে দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভ্রমণপিপাসুদের ফিরে আসার পথ সুগম হবে এবং পুরো অঞ্চলেই স্থিতিশীলতার সুবাতাস বইবে।



